টেন্ডার ও চুরির সুযোগ হারিয়ে বেপরোয়া লিয়াকত সিন্ডিকেট: চোর চক্রের থাবায় মাতারবাড়ী মেগা প্রকল্প

টেন্ডার ও চুরির সুযোগ হারিয়ে বেপরোয়া সিন্ডিকেট: চোর চক্রের থাবায় মাতারবাড়ী মেগা প্রকল্প


মাতারবাড়ী মেগা প্রকল্পে লিয়াকত সিন্ডিকেটের থাবা: জাপানি কোম্পানির গাড়ি আটকে চাঁদাবাজি, নেপথ্যে চুরির চক্রান্ত ও অপপ্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার |

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প ‘মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ (সিপিজিসিবিএল) ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এলাকাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শক্তিশালী চোরাচালান ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। প্রকল্পে চুরির চেষ্টা ব্যর্থ ও আইনি টেন্ডারে অংশ নিয়ে সুবিধা করতে না পেরে এবার সরাসরি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল বহনকারী যান আটকে চাঁদাবাজির মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এতে কেবল সরকারি রাজস্বই নয়, মেগা প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তাসহ দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি আটকে চাঁদা দাবিঃ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজে নিয়োজিত জাপানি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘পেন্টা-ওসান করপোরেশন’ (Penta-Ocean Construction)-এর একটি মালামালবাহী ট্রাক চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে মহেশখালীর চালিয়াতলীস্থ আফজালিয়া পাড়া এলাকায় অবরুদ্ধ করা হয়। স্থানীয় চিহ্নিত এক চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্যরা গাড়িটির গতিরোধ করে চালক ও সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার গাড়ি মহাসড়কে আটকে এভাবে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির ঘটনায় প্রকল্পের বিদেশি প্রকৌশলী ও কর্মীদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।



এক কোটি টাকার চোরাই মালামাল জব্দ, নেপথ্যে লিয়াকত সিন্ডিকেটঃ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সংঘবদ্ধ চোর ও চাঁদাবাজ চক্রটির প্রধান নিয়ন্ত্রক চালিয়াতলী এলাকার চিহ্নিত গডফাদার লিয়াকত ও তার সহযোগীরা। সর্বশেষ গত ৬ আগস্ট দিবাগত রাত ২টার দিকে বিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘মগডেইল’ ডিউটি পোস্ট এলাকায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪৫০ কেজি চোরাই স্ক্র্যাপ উদ্ধার করে চুরির চেষ্টা পণ্ড করে দেয়। এর আগে ২৩ জুলাই একই এলাকা থেকে আরও ৫০০ কেজি মালামাল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পেকুয়া থানা ও পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ এর আগে উক্ত সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কোল পাওয়ারের প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি চোরাই মালামাল জব্দ করেছিল। একের পর এক চুরির ঘটনায় সম্প্রতি সিপিজিসিবিএল কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট প্রধান লিয়াকত ও তার সহযোগীদের প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করে।

চোরাই মাল পাচারকালে লিয়াকত সিন্ডিকেটের গাড়ি


টেন্ডারবঞ্চিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারঃ

প্রকল্প সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সম্প্রতি স্বচ্ছ ও বিধিসম্মত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান স্ক্র্যাপ অপসারণের কার্যাদেশ পায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লিয়াকত সিন্ডিকেট বৈধ ঠিকাদারদের মালামাল পরিহনে বাধা সৃষ্টি করছে, যাতে প্রকল্প এলাকায় মালামাল জমে থাকে এবং তারা রাতের আঁধারে দামি তামা ও ক্যাবল চুরির সুযোগ পায়। অবৈধভাবে টেন্ডারের মালামাল হাতাতে ব্যর্থ হয়ে এবং চুরির সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চক্রটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিপিজিসিবিএল কর্তৃপক্ষ ও বিজয়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে।



বিনিয়োগ ঝুঁকি ও প্রশাসনিক কঠোরতার দাবি এলাকাবাসীরঃ

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, জাতীয় মেগা প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও জাপানি প্রতিষ্ঠানের যানবাহন এভাবে হয়রানির শিকার হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। চালিয়াতলীর চিহ্নিত গডফাদার লিয়াকতসহ এই চোর সিন্ডিকেটের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার, মহাসড়কে মালামাল পরিবহনে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ