মহেশখালীতে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে বর্বরোচিত হামলা, নারীসহ আহত ৪; পুরো তাণ্ডব সিসিটিভি ফুটেজে ধরা খেলো সন্ত্রাসীদের লুঠপাটের দৃশ্য
মহেশখালী প্রতিনিধি: কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানাধীন কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনূছখালী মৌজায় একরাম উল্লাহ ও মোস্তফা কামাল সহ যৌথভাবে ক্রয়কৃত ভোগদখলীয় জমি জবরদখল চেষ্টার ধারাবাহিকতায় এক বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিবাদীদের অব্যাহত হুমকির মুখে ভুক্তভোগী পরিবার কর্তৃক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার মাত্র দুই দিনের মাথায়, সেই আইনি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে গভীর রাতে সীমানা প্রাচীর (টিনের ঘেরা) ভাঙচুর ও প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় নারীসহ একই পরিবারের ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুরো ন্যাক্কারজনক ঘটনার ভিডিও চিত্র সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় রেকর্ড ও সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইউনূছখালী মৌজার বি.এস ৪২নং খতিয়ানের বি.এস ৩২৯ দাগের ২৩ কড়া জমিটি স্থানীয় মৃত রশিদ আহমদের পুত্র মোঃ একরামুল্লাহ (৪৩) এবং মোস্তফা কামাল সহ যৌথভাবে ২০২৪ সালে বৈধভাবে খরিদ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল ও নারিকেল বাগান পরিচর্যা করে আসছিলেন। কিন্তু উক্ত জমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে গত ০৮/০৭/২০২৬ইং তারিখে একই এলাকার মৃত বজলুল আহমদের পুত্র আক্তার হোসেন (৪৭) গাছপালা উপড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ভুক্তভোগী মোঃ একরামুল্লাহ গত ১৪/০৭/২০২৬ইং তারিখে মহেশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৬২১) দায়ের করেন।
সিসিটিভি ক্যামেরায় তাণ্ডবের ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষিত: গভীর রাতে আকস্মিক হামলা, ভাঙচুর ও নৃশংস মারধরের পুরো দৃশ্যটি ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে অপরাধীদের শনাক্তকরণ ও আইনি ব্যবস্থার জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
আইন অমান্য করে গভীর রাতে হামলা ও ভাঙচুর: থানায় জিডি করার পর বিবাদী পক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত ১৬/০৭/২০২৬ইং তারিখ গভীর রাত আনুমানিক ০২:২০ ঘটিকার সময় বিবাদী আক্তার হোসেন (৪৭), কফিল উল্লাহ (৩৪), তাহেরা বেগম (৩৬), দেলোয়ার হোসেন (৩৪) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটাসহ বেআইনি জনতাবদ্ধে উক্ত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা জমির চারদিকের টিনের ঘেরা বেড়া কেটে ও উপড়ে ফেলে প্রায় ৭০,০০০/- (সত্তর হাজার) টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করে এবং জমিতে থাকা চাষীদের ওপর হঠাৎ করে অতর্কিত হামলা ও মারধর শুরু করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভাঙচুরের শব্দ ও চাষীদের চিৎকারে একরামুল্লাহর প্রতিবেশী রুবেল, ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রী তাসলিমা জান্নাত (৩৪) এবং পুত্র মোঃ শাহিন (১৯) বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১নং আসামী আক্তার হোসেন ধারালো 'দা' দিয়ে একরামুল্লাহকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারলে তিনি আত্মরক্ষার্থে বাম হাত বাড়িয়ে দেন, যার ফলে তার বাম হাত কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। ২নং আসামী কফিল উল্লাহ লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে একরামুল্লাহর ছেলে শাহিনের বাম পা ভেঙে ও থেঁতলে দেয়। এছাড়া ৩নং আসামী তাসলিমা জান্নাতকে লাঠি দিয়ে এবং ৪নং আসামী দেলোয়ার হোসেন লোহার রড দিয়ে প্রতিবেশী রুবেলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। সিসিটিভি ফুটেজেও ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে এই নৃশংস তাণ্ডবের দৃশ্য ধরা পড়েছে।
আহতদের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মামলা-মোকদ্দমা করলে প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে ভুক্তভোগী মোঃ একরামুল্লাহ বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত এজাহার দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের নিকট ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আমলে নিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





.jpeg)

0 মন্তব্যসমূহ