সতর্ক সংকেত না মেনে কলাতলী সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক আনোয়ার নিখোঁজ

 

কক্সবাজারের কলাতলী সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক আনোয়ার নিখোঁজ

কক্সবাজারের কলাতলী সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক আনোয়ার নিখোঁজ, ছেলেকে জীবিত উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি:(RBN)

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে লাইফগার্ডের লাল সংকেত ও সতর্কতা অমান্য করে সাগরে গোসলে নেমে মেহেরপুর থেকে আসা আনোয়ার শেখ নামে এক পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। এ সময় তাঁর ছেলে হেলাল উদ্দিনকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কলাতলী পয়েন্টের লাইফ গার্ডের লাল পতাকা চিহ্নিত হোটেল সাইমনের দক্ষিণপাশে ভয়ংকর সাগর পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাত ১০ টা পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিকে সি-সেফ লাইফগার্ড, স্থানীয়রা ও উদ্ধারকর্মীরা সাগরে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনাঃ

লাইফগার্ড ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুর থেকে আসা পর্যটকদের একটি দল বিকেলে সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে সাগরে নামেন। যে পয়েন্টে গোসলে নামে সেখানে লাইফগার্ডের কোন সদস্য দায়িত্বরত ছিলো না কারণ সেটি লাইফগার্ডের দায়িত্বের বাইরের এলার্ট জোন। আবহাওয়া পরিস্থিতি খারাপ থাকা সত্বেও সে সময় সাগরে উত্তাল ঢেউ এবং মারাত্মক গুপ্তখালের (Rip Current) ঝুঁকি থাকায় লাইফগার্ডের পক্ষ থেকে বারবার পর্যটকদের তীরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল। তবে সেই আইনি সতর্কতা উপেক্ষা করে বাবা ও ছেলে সহ একটি পর্যটক টিম একসঙ্গে সাগরে নেমে পড়েন।

সাগরে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই তীব্র স্রোত ও বড় ঢেউয়ের তোড়ে দুজনেই তলিয়ে যেতে থাকেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে  সৈকতে দায়িত্বে থাকা লাইফগার্ড কর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা ছেলেকে চোরাবালিতে আটকা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠাতে সক্ষম হলেও বাবা উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে তলিয়ে যান।

লাইফগার্ড কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে সম্ভাব্য পয়েন্টগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে বৈরী আবহাওয়া ও সাগরের তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।

পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম উদ্ধার কাজে আছেন বলে জানা যায়।

পর্যটকদের অসচেতনতায় গোসলে নেমে নিখোঁজ হচ্ছেঃ

এদিকে সৈকতে একের পর এক পর্যটক নিখোঁজ ও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও সমুদ্র নিরাপত্তা কর্মীরা।

তাদের মতে, সৈকতের সংকেত, জোয়ার-ভাটার সময়সূচি এবং লাইফগার্ডের নির্দেশনা মানতে পর্যটকদের উদাসীনতাই  ৯৯ শতাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। ভাটার সময়ে অথবা বিপজ্জনক পয়েন্টে লাল পতাকা টানানো থাকা সত্ত্বেও অতি-উৎসাহে সাগরে নেমে সাঁতার কাটার কারণে পর্যটকরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সৈকতে বিচ পুলিশের তদারকি আরও জোরদার করার পাশাপাশি সচেতনার বার্তা প্রচার করা জরুরি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ