মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে যাত্রী পারাপারে চরম দুর্ভোগ

 



-সি-ট্রাকে ওঠার ঝুঁকিপূর্ণ পথ ও সিন্ডিকেটের দাপট

কক্সবাজার প্রতিনিধি

দেশজুড়ে অভূতপূর্ব অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি। প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও মুমূর্ষু রোগীরা জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে এই রুটে পারাপার হচ্ছেন। বিশেষ করে সি-ট্রাকে ওঠানামার জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক পথটি এখন যাত্রী সাধারণের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সি-ট্রাকে ওঠানামার মরণফাঁদঃ

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, পরিবার-পরিজন নিয়ে মহেশখালী যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে হয়। জেটি ও পন্টুনের বেহাল দশার কারণে সি-ট্রাকে ওঠার সময় ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সামান্য অসাবধানতায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হওয়া সত্ত্বেও মহেশখালীর মানুষের পারাপারের এই আদিম ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থার কোনো স্থায়ী সমাধান আজও হয়নি।

দুর্যোগে চরম ভোগান্তি ও দ্বীপের অবরুদ্ধ দশা

সম্প্রতি কক্সবাজার জেলাজুড়ে বয়ে যাওয়া টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহেশখালী দ্বীপের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দুই পাশেই সব ধরনের নৌযান ও বোট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মহেশখালী। এতে জরুরি চিকিৎসার জন্য মুমূর্ষু রোগীদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি, তেমনি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ বন্ধ থাকায় অবরুদ্ধ দিন কাটিয়েছে দ্বীপের লাখো মানুষ।


উন্নয়নের অন্তরায় ‘নৌ-সিন্ডিকেট’

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এই নৌপথের আধুনিকায়ন না হওয়ার পেছনে একটি শক্তিশালী পরিবহন সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘাটের ইজারাদার ও অসাধু চক্রের একচেটিয়া ব্যবসার স্বার্থে নিরাপদ ও আধুনিক নৌযান চালুর উদ্যোগে বাধা দেওয়া হয়। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং দুর্যোগের অজুহাতে নৌযান বন্ধ রাখার মতো অভিযোগও উঠেছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।


মহেশখালীর মানুষের এই চিরন্তন ভোগান্তি ও জীবনঝুঁকি থেকে মুক্তির জন্য অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন মহেশখালীর সন্তান ড. সুজাউদ্দিন এফ সোহান। 

 অন্যান্য ভুক্তভোগীদের দাবি, নৌ-সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে কক্সবাজার ও মহেশখালী উভয় প্রান্তে নিরাপদ জেটি নির্মাণ, আধুনিক পন্টুন স্থাপন এবং যাত্রী ওঠানামার পথটি অবিলম্বে সুগম করতে হবে। অন্যথায় মরার আগ পর্যন্ত এই মরণফাঁদকেই নিয়তি মেনে নিয়ে দ্বীপবাসীকে যাতায়াত করতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ