এরফান হোছাইনঃ
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বন্যা কবলিত অসহায় মানুষের মাঝে দিনব্যাপী ত্রাণ ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) সৌজন্যে এবং মাতারবাড়ি ২×৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দুর্গত এলাকার মানুষের আপদকালীন খাদ্য সংকট দূরীকরণ এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই ছিল এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।
খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহঃ
দিনব্যাপী পরিচালিত এই কার্যক্রমে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে একটি সুনির্দিষ্ট প্যাকেজের আওতায় প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া ত্রাণ প্যাকেজে প্রধান খাদ্যপণ্য হিসেবে ছিল ৮ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি ভোজ্যতেল ও ১ কেজি পেঁয়াজ। এছাড়া বন্যা পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ক্ষুধা নিবারণের জন্য শুকনো খাবার হিসেবে ১ কেজি চিড়া, ১ কেজি মুড়ি ও ২ প্যাকেট বিস্কুট সরবরাহ করা হয়। একই সাথে রান্নার জন্য ১ কেজি লবণ এবং বিদ্যুৎহীন উপদ্রুত এলাকায় আলো ও আগুন জ্বালানোর সুবিধার্থে ২ পিস মোমবাতি ও ১ বক্স দিয়াশলাই (ম্যাচ) দেওয়া হয়েছে।
জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণঃ
খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে আটটি অতিপ্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও মেডিকেল উপকরণের একটি বিশেষ কিট দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাধারণ জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথার জন্য ১০টি প্যারাসিটামল এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য ১০টি চিবিয়ে খাওয়ার অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া অ্যালার্জি ও চুলকানির জন্য ১০টি সেটিরিজিন, পাতলা পায়খানার জন্য ১০টি মেট্রোনিডাজল এবং পানিসূন্যতা রোধে ৫ প্যাকেট ওআরএস (ORS) স্যালাইন দেওয়া হয়। বন্যার নোংরা পানিতে ত্বকের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ রোধে ১টি ক্লোট্রিমাজল ক্রিম এবং ক্ষতস্থান পরিষ্কারে ১টি পোভিডোন-আইোডিন সলিউশনও দেওয়া হয়েছে এই প্যাকেজে।
বিশেষ করে বন্যায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রুখতে প্রতিটি পরিবারকে ১০টি করে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, এই হ্যালোট্যাব ৫০ মিলিগ্রামের মাত্র ১টি ট্যাবলেট দিয়ে ১২.৫ লিটার পানি পানের উপযোগী করা সম্ভব। তবে এটি কোনোভাবেই যাতে কেউ সরাসরি সেবন না করেন, সেজন্য বিতরণকালে ভুক্তভোগীদের বিশেষভাবে সচেতন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষের এই সময়োপযোগী ও সুসমন্বিত ত্রাণ উদ্যোগের তীব্র প্রশংসা করেছেন।



0 মন্তব্যসমূহ