কক্সবাজারের মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর প্রধান মিন্টু আটক।
শুক্রবার ১৭ জুলাই ২০২৬ বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কক্সবাজারের মহেশখালী থানাধীন হোয়ানকের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র গোপনে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চক্রটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির পাশাপাশি জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে স্থানীয় জনগণকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজ ১৭ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার সকাল ৬ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে উক্ত এলাকায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর আস্তানায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ৫ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৯ টি দেশীয় পিস্তল, ১ টি বিদেশী পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১ টি দেশীয় অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরীর সরঞ্জামাদিসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর প্রধান মিন্টুকে আটক করা হয়।
আটককৃত সন্ত্রাসী ইমাম হোসেন মিন্টু (৩৮) কক্সবাজারের মহেশখালী থানার হোয়ানকের বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী 'মিন্টু বাহিনী'-এর প্রধান হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাকে আটকের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্রের একজন অন্যতম ব্যবসায়ীকে আটক করা সম্ভব হলো যেই অস্ত্র মহেশখালীসহ দেশের পূর্ব উপকূলীয় এলাকার সাধারণ জেলে ও লবণ চাষীদের জীবন অতিষ্ঠ করে আসছে। তার এই আটকের ফলে সাধারণ জেলের জন্য নিরাপদ সমুদ্র নিশ্চিত করার একটা প্রচেষ্টা সফল হলো। এই বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের আটকে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত সন্ত্রাসীর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড যে সফলতা অর্জন করেছে, সেই ধারাবাহিকতায় মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও চোরাচালান নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

0 মন্তব্যসমূহ