কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বন্যায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি ইউনিয়নই এখন বন্যাকবলিত। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। গত কয়েকদিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, পাহাড়ধস এবং বানের জলে ভেসে গিয়ে শিশু ও রোহিঙ্গাসহ এখন পর্যন্ত মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে বিভিন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে উখিয়ার ৫ ও ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই আশ্রয়শিবিরের কাঁচা ঘরের ওপর পাহাড় ধসে ১৩ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে কক্সবাজার শহরতলীর ছাত্তার ঘোনা, দরিয়ানগর ও ঝিরিঝিরি পাড়ায় ৩ জন, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে ২ জন, পেকুয়া উপজেলার টৈটংয়ে ১ জন এবং উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নে ১ জন মাটিচাপা পড়ে মারা গেছেন।
পাহাড়ধসের পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে এবং বানের পানিতে ডুবে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নেই বানের জলে ভেসে মারা গেছেন সর্বোচ্চ ৭ জন। এছাড়া রামুর কচ্ছপিয়ায় ১ জন ও মহেশখালীর কুতুবজোমে ১ জন ঢলের স্রোতে ভেসে যান এবং পেকুয়ায় পানিতে ডুবে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, এবারের বন্যায় জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি ইউনিয়নই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলাগুলোর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বর্তমানে ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। দুর্গত এলাকায় আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে জেলা প্রশাসন মাঠপর্যায়ে তৎপরতা চালাচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ