![]() |
| মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মোঃ আবু জাফর মজুমদার |
মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। সরকারি দাপ্তরিক কাজের গণ্ডি পেরিয়ে চরম দুর্যোগের মাঝেও দিন-রাত এক করে পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মোঃ আবু জাফর মজুমদার। বিপদের দিনে মাঠপর্যায়ে তাঁদের এমন মানবিক ও অক্লান্ত পরিশ্রমের চিত্র এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪-৫ দিনের টানা অতিবর্ষণ এবং জোয়ারের পানিতে মহেশখালী দ্বীপের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার অধিকাংশ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেদের বিশ্রামের কথা ভুলে দুর্যোগের প্রথম দিন থেকেই মাঠে নেমেছেন ইউএনও ডালিম ও এসিল্যান্ড জাফর।
পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে শুরু করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোর প্রতিটি কোণায় কোণায় কোমর সমান পানি ভেঙে ছুটে চলছেন এই দুই কর্মকর্তা। কোথায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করতে হবে, কোথায় মানুষ আটকা পড়েছে—সবকিছুর তাৎক্ষণিক তদারকি করছেন তাঁরা নিজেরাই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার বাইরে গিয়ে মহেশখালী দ্বীপকে ভালোবেসে নিজেদের পরিবারের মতো আগলে রাখছেন এই দুই কর্মকর্তা। কোনো কোনো এলাকায় গভীর রাতেও তাঁদেরকে দুর্গত মানুষের খোঁজ নিতে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে সরাসরি কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। প্রশাসনের এমন মানবিক আচরণে প্লাবিত এলাকার সাধারণ ও অসহায় মানুষের মনে নতুন করে বাঁচার সাহস জোগাচ্ছে।
ইউএনও ডালিম ও এসিল্যান্ড জাফরের এই নিরলস কর্মযজ্ঞের ছবি ও ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল। বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপগুলোতে নেটিজেনরা তাঁদের "জনগণের প্রকৃত সেবক" এবং "মানবতার ফেরিওয়ালা" হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
ফেসবুকে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, "অতীতে অনেক কর্মকর্তা দেখেছি, কিন্তু মহেশখালীর এই দুর্যোগে ইউএনও ও এসিল্যান্ড যেভাবে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে সাহায্য করছেন, তা সত্যিই বিরল ও অনুকরণীয়।" তরুণ সমাজ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সংকটকালীন মুহূর্তে প্রশাসনের এমন ইতিবাচক ভূমিকা সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পুনর্বাসিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের এই বিশেষ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের নজরদারি কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।

0 মন্তব্যসমূহ