কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ


কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা বিচ পয়েন্টে সাগরে ভাসমান অবস্থায় মাথা ও পা বিচ্ছিন্ন এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় পর্যটক ও সৈকতকর্মীরা মরদেহটি সৈকতে পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে এই মরদেহটি সাগরপথে ভেসে এসেছে।


সৈকতে আতঙ্ক ও মরদেহ উদ্ধার

প্রত্যক্ষদর্শী সৈকতকর্মী খোরশেদ জানান, রাতে সুগন্ধা পয়েন্টে জোয়ারের পানিতে বিকৃত অবস্থার একটি মরদেহ ভেসে আসতে দেখে তারা পুলিশকে অবহিত করেন। মরদেহটির মাথা এবং দুই পা শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় এটি এতটাই বিকৃত ও গলিত ছিল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে এর লিঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না। খোরশেদের অনুমান, মরদেহটি অন্তত দুই মাস আগের। পরে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।


মিয়ানমার সংঘাতের যোগসূত্র

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, সুরতহাল পরীক্ষা শেষে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে এটি একজন পুরুষের মরদেহ।

মিয়ানমার পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে চলমান তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই ব্যক্তিকে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। দীর্ঘদিন সাগরে ভাসমান থাকায় হাঙ্গর বা অন্য কোনো হিংস্র জলজ প্রাণী মাথা ও পা খেয়ে ফেলার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।"

ওসি আরও উল্লেখ করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; গত কয়েক দিনে টেকনাফ উপকূলে তিনটি এবং কক্সবাজারের অন্য পয়েন্টে আরেকটিসহ মোট ৪টি অজ্ঞাত মরদেহ সৈকতে ভেসে এসেছে। টেকনাফ থানা পুলিশের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সার্বিক আলামত ও ভৌগোলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জোরালোভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, ভেসে আসা এই মরদেহগুলো মিয়ানমারের নাগরিকদের।