মহেশখালীতে অস্ত্রসহ মজিদ বাহিনীর ২ সদস্য গ্রেপ্তার, বিএনপি নেতা সরওয়ার বাহিনীর দাপটে নিরাপত্তাহীনতায় স্থানীয়রা

বিএনপি ঘোনা দখলকে কেন্দ্র করে দু গ্রুপের দাপট 



ক্রাইম রিপোর্টার | ৩০ জুন, ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের উপকূলীয় জনপদে আধিপত্য বিস্তার, চিংড়ি ঘের দখল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ‘مজিদ বাহিনী’র দুই সক্রিয় সদস্যকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে। তবে মজিদ বাহিনীর দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হলেও মাঠপর্যায়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ—ধলঘাটা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সরওয়ার আলম শাহীনের নেতৃত্বাধীন ‘সরওয়ার বাহিনী’র সশস্ত্র দাপট, লুণ্ঠন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ধলঘাটা উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মজিদ বাহিনীর ওই দুই সদস্যকে ঘেরাও করে তাদের হেফাজত থেকে এলজি ও বিপুল পরিমাণ কার্তুজসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত ব্যক্তিরা এলাকায় ডাকাতি, মাছের ঘের দখল ও অবৈধ অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্র এবং বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমের অপরাধচিত্র বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মজিদ বাহিনীর দুই সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর ধলঘাটার উপকূলীয় ও চরাঞ্চলে একক রাজত্ব কায়েম করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা সরওয়ার আলম শাহীনের নিজস্ব স্কোয়াড ‘সরওয়ার বাহিনী’। ধলঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির এই বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ঘের দখল, সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাৎ, উপকূলীয় লবণ মাঠে চাঁদাবাজি এবং দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী পোষণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষ গ্রুপটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে কোণঠাসা হওয়ার সুযোগে সরওয়ার আলম শাহীনের অনুসারীরা এখন ধলঘাটার বিভিন্ন মৎস্য ঘের ও সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম-অত্যাচার বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় নেই। মজিদ বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর এখন ধলঘাটার বিএনপি নেতা সরওয়ার আলম শাহীনের বাহিনীর অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ওপরও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা অবৈধ অস্ত্রধারীদের সমূলে উপড়ে ফেলতে অতি দ্রুত বড় ধরনের যৌথ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ