কক্সবাজারের শালিক রেস্তোরাঁ মালিকের টর্চার সেলে যুবককে মধ্যযুগীয় বর্বরতা



নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার | 

কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা কলাতলীর বিতর্কিত ‘শালিক রেস্তোরাঁ’র মালিক নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে উঠেছে মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানানো ভয়ংকর এক নির্যাতনের অভিযোগ। স্বাধীন নামের এক যুবককে কৌশলে ঢাকা নিয়ে টানা তিনদিন অন্ধকার কক্ষে বন্দি রেখে পাশবিক কায়দায় নির্যাতন করার রোমহর্ষক কাহিনী এখন লোকমুখে।

ঘটনার সূত্রপাত ও টর্চার সেল

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনকে ফুসলিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নিয়ে যান নাসির উদ্দীন। সেখানে ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় নাসিরের চতুর্থ স্ত্রীর বাসায় অবস্থিত এক গোপন ‘টর্চার সেলে’ তাকে বন্দি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অন্ধকার প্রকোষ্ঠটি নাসির দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইলিং ও অবাধ্যদের শায়েস্তা করার কাজে ব্যবহার করে আসছেন।

অমানবিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল

টানা তিনদিন স্বাধীনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে ফেলতে চালানো হয় অমানবিক অত্যাচার। নির্যাতনের এক পর্যায়ে জোরপূর্বক স্বাধীনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, স্থায়ীভাবে মুখ বন্ধ রাখতে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তাকে বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করার অভিযোগও উঠেছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়।



উদ্ধার ও বর্তমান অবস্থা

নির্যাতনের ভয়াবহতা এতোটাই তীব্র ছিল যে, স্বাধীনের পুরো শরীরে অসংখ্য গভীর ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে গুরুতর আহত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় তাকে বিমানে তুলে কক্সবাজার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত রবিবার বিকেলে কক্সবাজার বিমানবন্দর গেট এলাকা থেকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। দ্রুত সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকদের কাছে বেরিয়ে আসে সেই তিন দিনের নারকীয় অভিজ্ঞতার কথা।


শালিক রেস্তোরার মালিক নাছির


স্তম্ভিত স্থানীয়রা

বাস্তব জীবনের এই বিভীষিকা শুনে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন কক্সবাজারের সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই বর্বরতা কোনো ক্রাইম থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানিয়েছে। একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীদের এমন ঔদ্ধত্য এবং নৃশংসতা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত নাসির উদ্দীনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীর পরিবার এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ