হামের থাবায় কক্সবাজারে ২৪ ঘন্টায় ২ শিশুর মৃত্যু: আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজার ছুঁইছুঁই
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল।
গত রোববার (৩ মে) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
মৃতরা হলো—রামু উপজেলার আতিকুর রহমান (৮ মাস) এবং ওয়াজিফা (৬ মাস)। আতিকুরকে রোববারই হাসপাতালে আনা হয়েছিল, কিন্তু চিকিৎসকের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অন্যদিকে, ওয়াজিফা গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে যমে-মানুষে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানল। এই দুই প্রাণহানি নিয়ে চলতি বছরে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ জনে।
হাসপাতালের চিত্র এখন আরও উদ্বেগজনক। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শান্তনু ঘোষের তথ্যমতে, প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতের বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে। গত মাত্র ২৪ ঘণ্টাতেই ভর্তি হয়েছে ৭৯ জন নতুন রোগী। হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড থেকে বারান্দা—সবখানেই এখন হাম আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। শয্যা সংকটের কারণে অনেক সময় মেঝেতেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে রোগীদের। চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ করেই সংক্রমণের এই উর্ধ্বগতি মোকাবিলা করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংক্রমণের এই ব্যাপকতা শুরু হয়েছে গত মার্চের শেষ ভাগ থেকে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম চার মাসে আক্রান্ত ১,৪৫২ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশই আক্রান্ত হয়েছে মাত্র গত পাঁচ সপ্তাহে। বিশেষ করে ২৯ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত সংক্রমণের গ্রাফ রকেটের গতিতে ওপরে উঠেছে। এই স্বল্প সময়ে ১,৩৯৯ জন শিশুর আক্রান্ত হওয়া এবং ১৩ জনের মৃত্যু প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।

0 মন্তব্যসমূহ