৪ জন পেশাদার ছিনতাইকারী ও ৫ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে নেমেছে জেলা পুলিশ। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ছিনতাইকারী চক্রের ৪ সক্রিয় সদস্যসহ ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (৮ এপ্রিল) দিনভর শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ও শহরতলীর ইউনিয়নগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের নেপথ্যে
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন মৌসুমে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে সদর মডেল থানা পুলিশ গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক ঝটিকা অভিযান চালায়। এতে জনবহুল এলাকাগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টি করা একটি ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৪ জন পেশাদার ছিনতাইকারী হিসেবে চিহ্নিত। তারা হলেন—
মোঃ রফিক (৩৮)
আবদুল ওয়াহিদ (২৪)
রহিম প্রকাশ ‘রং চা’ (৩৮)
আবু জাফর ছিদ্দিক ওরফে ‘সালমান শাহ’ (২১)
স্থানীয়দের তথ্যমতে, ‘রং চা’ ও ‘সালমান শাহ’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে এই তরুণেরা দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে ছিনতাই ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছিল। এছাড়া অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া বাকি ৫ জন বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত বা নিয়মিত মামলার পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) আসামি। তারা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিল।
পুলিশের ভাষ্য
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ছমি উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, “শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ছিনতাইমুক্ত শহর নিশ্চিত করতে আমরা আপসহীন। গত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে আমরা ছিনতাইকারী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
ওসি আরও জানান, পর্যটন নগরীর জননিরাপত্তা নিশ্চিতে এ ধরনের মাদক, অস্ত্র ও ছিনতাইবিরোধী অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষণ ও জননিরাপত্তা
পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজারে অপরাধীদের তৎপরতা দমনে পুলিশের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তবে শহরের কিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন পয়েন্ট ও নির্জন উপ-সড়কগুলোতে টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন পর্যটকরা। পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান শহরের অপরাধীদের মনে ভীতির সঞ্চার করবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ