মহেশখালীতে জমি দখলে বাধা দেওয়ায় বিএনপি নেতাসহ ৩ জনকে কুপিয়ে জখম

 



আহত ফোরকানের অবস্থা আশঙ্কাজনক; কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার।

অভিযুক্তরা সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার আত্মীয় বলে পরিচিত।


মহেশখালী প্রতিনিধি::

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতিসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী।


বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর দুইটার দিকে ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি'র সভাপতি মো. ফোরকান রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।



 ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মাইজপাড়া সড়কের পাশে বিএনপি নেতা ফোরকানের ক্রয়কৃত নিজস্ব জায়গায় জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করতে চায় স্থানীয় 'কাটা রফিক' ও তার সশস্ত্র সহযোগীরা। খবর পেয়ে ফোরকান ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা প্রদান করলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা রফিক এবং তার ভাই আবু হুরাইরা প্রকাশ 'আবু ডাকাত'সহ ৭-৮ জন তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফোরকানের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন।



 ফোরকানকে বাঁচাতে তার বড় ভাই ঝাপুয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আক্কাস এবং ভাগ্নে ইউনিয়ন শ্রমিক দল নেতা তৌহিদুল ইসলাম মিশুক এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। তাদের দুজনকে ব্যাপক মারধর ও রক্তাক্ত করে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ফোরকানের অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।



 আহতদের পরিবার জানায়, এই হামলার নেতৃত্বে ছিল রফিক উদ্দিন প্রকাশ 'কাটা রফিক' এবং আবু প্রকাশ 'আবু ডাকাত'। তারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ার সুবাদে এলাকায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রটি এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে পটু। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এই হামলায় রফিকের সঙ্গে তারেক, সৌরভ এবং ছাত্রলীগ নেতা বাবুসহ বেশ কয়েকজন অংশ নেন বলে জানা গেছে।


এ ঘটনার পর থেকে কালারমারছড়া এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার পরও অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইউনিয়ন বিএনপি ও সাধারণ মানুষ।



যোগাযোগ করা হলে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান জানান, "হামলার বিষয়টি জেনেছি । তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ