মহেশখালীর উত্তর নলবিলায় ম্যাক্স গ্রুপের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি ও দখলের অভিযোগ
মহেশখালীর উত্তর নলবিলায় ম্যাক্স গ্রুপের এক কর্মকর্তা আল আমিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেশখালীতে ম্যাক্স গ্রুপের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিক ব্যক্তির ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে জমি ক্রয়ে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কিছু দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জমি অবৈধভাবে দখলের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে লবণ চাষিরা অভিযোগ করেছেন, দখলীয় জমিতে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, ফলে তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
ইতোমধ্যে মহেশখালী ও বদরখালী এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী জমির মালিক ও স্থানীয়রা এ ধরনের সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মহেশখালী প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া অড়িও রেকর্ড সহ দুর্নীতিবাজ আল আমিনকে নিয়ে কালারমারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও অন্যতম ভুক্তভোগী নুরুল আবছার জানান,
প্রিয় এলাকাবাসী, সাংবাদিক ভাইরা, প্রকৃত জমির মালিকগণ, এলাকার সচেতন মহল:
----------------------------------------------------
আমি নুরুল আবছার, কালারমারছড়া ইউনিয়নের একজন ভুক্তভোগী জমির মালিক। আজ আমি আমার পৈতৃক লবণ মাঠ ও জমি জোরপূর্বক দখল, হুমকি ও হয়রানির অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক কিছু গুরুতর অভিযোগ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের পৈতৃক জমিতে লবণ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলাম। হঠাৎ করে ম্যাক্স কোম্পানি একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের মাধ্যমে আমাদের লবণ মাঠ ও জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছি।
আমরা কয়েকজন জমির মালিক কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করলে তারা আমাদের ম্যাক্স কোম্পানির প্রতিনিধি আল আমিনের সাথে কথা বলতে বলে। আমরা জমির কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি দেখা করতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে আমাদের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি আমাদের সাথে অশোভন আচরণ করেন, গালিগালাজ করেন এবং কোনো সমাধান না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
আমরা বারবার তাকে অনুরোধ করি সরেজমিনে এসে প্রকৃত অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো দাবি করেন যে, এসব জমি তিনি অন্য এক পক্ষের কাছ থেকে নিয়েছেন। প্রকৃত মালিক হিসেবে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাদের হুমকি-ধামকি দেন।
বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, আমরা নিজেদের জমিতে যেতে পারছি না। কাজ করতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে, উল্টো মামলা ও হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নারীসহ সাধারণ মানুষকেও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
খবর নিয়ে জানা যায়, সংঘবদ্ধ এই চক্রের প্রধান কথিত আল আমিন। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় রয়েছে এবং অহরহ মানুষের জমি দখল করে নিচ্ছে। প্রকৃত মালিকদের বঞ্চিত করে দখলকৃত জমিতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, ফলে বহু মানুষ তাদের পৈতৃক সম্পদ হারিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এছাড়াও সাধারণ মানুষের জমির উপর অবৈধভাবে বেঁধি/বাঁধ নির্মাণ করে দখল নেওয়া হয়েছে এবং পানি চলাচলের প্রাকৃতিক খাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জমির স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, অনেক লবণ মাঠ পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে এবং চাষীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে আইন ও নিয়মের পরিপন্থী।
সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। এলাকার মানুষ ভয়ে নীরব হয়ে আছে। নিজেদের ন্যায্য অধিকার চাইতেও এখন মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।
আপনাদের কাছে অনুরোধ,,,,সাংবাদিক ভাইদের অনুসন্ধানে, সচেতন মহলের সহযোগিতা এবং প্রকৃত জমির মালিকদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের মাধ্যমে এই অন্যায় ও দখলবাজির প্রকৃত চিত্র সামনে আনা সম্ভব। কীভাবে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে তাদের পৈতৃক জমি দখল করা হচ্ছে, তা উন্মোচনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।।। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং উন্নয়নের পক্ষে। কিন্তু উন্নয়নের নামে আমাদের জমি জবরদখল, খাল বন্ধ করে পরিবেশের ক্ষতি এবং সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমি একজন ভুক্তভোগী হিসেবে ন্যায়বিচার চাই, আমার জমি ফেরত চাই এবং এই দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
সবাই দোয়া করবেন, ইনশাল্লাহ আমরা যেন সংঘবদ্ধ এই চক্রের বিরুদ্ধে নিজের অধিকার ও এলাকার অধিকার আদায়ের জন্য আইনিভাবে দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করতে পারি। ইনশাআল্লাহ, সত্য ও ন্যায়ের জয় হবেই।
সবার কাছে অনুরোধ,এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন থাকুন এবং সত্যের পাশে দাঁড়ান।


0 মন্তব্যসমূহ