কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে নিখোঁজের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় কথিত ‘অপহরণ নাটক’ সাজানোর অভিযোগে এক কিশোর ও তার সহযোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ধলিরছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, মূলত পাটি বিক্রির টাকার হিসাব এড়াতে এবং পরিবার থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেই এই কিশোর নিজের অপহরণের গল্প সাজিয়েছিল।
উদ্ধারকৃত কিশোরের নাম মো. ইব্রাহিম (১৫)। সে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের গ্রাহানপুর গ্রামের চয়নের ছেলে। বর্তমানে সে ঈদগাঁও এলাকায় থেকে তার ফুফাতো ভাই কালাম সরদারের অধীনে পাটি বিক্রির কাজ করত। তার সহযোগী মো. ফয়সাল (১৮) ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভুতিয়াপাড়া এলাকার সোলাইমানের ছেলে এবং পেশায় একজন টমটম চালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার পাটি বিক্রি করে বাসায় না ফেরায় মালিক কালাম সরদার ঈদগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় ইব্রাহিমের মোবাইল ফোন থেকে কালামের কাছে ফোন করে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ইব্রাহিমকে হত্যার হুমকি দেয় কথিত অপহরণকারীরা। মুক্তিপণের টাকা টমটম চালক ফয়সালের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে বলা হলে পুলিশের সন্দেহ দানা বাঁধে।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা এসআই আশরাফ হোসেন জানান, জিডির সূত্র ধরে সিভিল পোশাকে সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। এক পর্যায়ে টমটম চালক ফয়সালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে পুরো ঘটনাটি স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধলিরছড়া পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে থাকা ইব্রাহিমকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিম জানায়, পাটি বিক্রির টাকা দিয়ে সে ফয়সালের সঙ্গে গাঁজা সেবন করে ফেলেছিল। সেই টাকার হিসাব মালিককে দিতে হবে—এমন ভয় থেকেই তারা পাহাড়ের নির্জন এলাকায় লুকিয়ে অপহরণের নাটক সাজায়।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ঈদগাঁও উপজেলাজুড়ে ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের মতো অপরাধমূলক ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ‘নাটকীয়’ ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অধিকতর তদন্তের জন্য উদ্ধারকৃতদের বর্তমানে সদর সার্কেল কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

0 মন্তব্যসমূহ