‘অস্তিত্ব বিলীন করে সিঙ্গাপুর হতে চাই না’: মহেশখালীতে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংসের প্রতিবাদে এমপি আলমগীর ফরিদ

‘অস্তিত্ব বিলীন করে সিঙ্গাপুর হতে চাই না’: মহেশখালীতে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংসের প্রতিবাদে এমপি আলমগীর ফরিদ


নিজস্ব প্রতিবেদক | 

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই ভয়াল জলোচ্ছ্বাসের ৩৫ বছর পার হলেও এখনো অরক্ষিত উপকূল। উন্নয়নের নামে উজাড় করা হচ্ছে রক্ষাকবচ ‘প্যারাবন’, কাটা হচ্ছে পাহাড়। এমনকি ব্যক্তিস্বার্থে বেড়িবাঁধ কেটে বানানো হচ্ছে লবণের গোডাউন। এমন বাস্তবতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেছেন, "আমাদের অস্তিত্ব বিলীন করে আমরা সিঙ্গাপুর হতে চাই না; আমরা আমাদের সম্পদ নিয়ে বাঁচতে চাই।"

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর মেট্রো লাউঞ্জ রেস্টুরেন্টে ‘মহেশখালীস্থ ঢাকা সমিতি’ আয়োজিত এক স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্মৃতিতে ৯১-এর বিভীষিকা

ভয়াল সেই রাতের স্মৃতিচারণ করে এমপি আলমগীর ফরিদ বলেন, "সেদিন আড়াই লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। শুধু মহেশখালীতেই ৩৫ হাজার এবং কুতুবদিয়ায় ২৫ হাজার মানুষ মারা যান। আজ এত বছর পরও আমরা উপকূলকে নিরাপদ করতে পারিনি। জলোচ্ছ্বাস ঠেকানোর প্রাকৃতিক ঢাল যে ‘প্যারাবন’, তা আজ ভূমিদস্যুদের কবলে।"

বেড়িবাঁধ কেটে লবণের গোডাউন!

প্রকৃতি ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয় অসাধু ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "উপকূলবাসীর জীবন বাঁচানোর একমাত্র মাধ্যম ওয়াপদার বেড়িবাঁধ। অথচ স্বার্থান্বেষী মহল সেই বাঁধ কেটে লবণের গোডাউন ও ট্রলার তৈরির কারখানা বানাচ্ছে। সামান্য জোয়ার এলেই লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ছে। আমরা নিজেরা সচেতন না হলে কোনো সাইক্লোন শেল্টার আমাদের বাঁচাতে পারবে না।"


উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সংকট

উন্নয়নের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে এমপি ফরিদ জানান, মাতারবাড়ীতে মেগা প্রকল্পের প্রভাবে স্থানীয় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া উপকূলীয় সুরক্ষায় আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "সুপার ডাইকের ৯৫০ কোটি টাকার ফাইল বছরের পর বছর মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকে। শুধু যাচাই-বাছাইয়ের নামেই তা বারবার ফেরত আসে।"


দাবি: স্বতন্ত্র উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড

সংকট সমাধানে সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, "অবিলম্বে কক্সবাজার কেন্দ্রিক একটি স্বতন্ত্র ‘উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করতে হবে।" পাশাপাশি তিনি জানান, মহেশখালী-কক্সবাজার সংযোগ সেতু বাস্তবায়নের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রণালয়ে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।


মহেশখালীস্থ ঢাকা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের উপ-সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম। এছাড়া সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী এবং বিপুল সংখ্যক পেশাজীবী উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

#CoastalProtection #Moheshkhali #EnvironmentalJustice #MPAlamgirFarid #SaveMangroves #BangladeshTourism

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ