##মিয়ানমার সংঘাতের কারণে স্থবিরতা কাটানোর চেষ্টা সরকারের; সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সচল হচ্ছে বন্দর কার্যক্রম।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা টেকনাফ স্থলবন্দরের সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় পুরোদমে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জনস্বার্থ ও ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই বাণিজ্য কার্যক্রম সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সফরকালে প্রতিমন্ত্রী টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় নাফ নদী তীরবর্তী স্থলবন্দরে পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি বন্দর এলাকার গুদামজাত পণ্য ও সার্বিক অবকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মো. রাজিব আহসান বলেন, "স্থলবন্দরটি পুনরায় সচল করতে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, কাস্টমস, এনবিআর এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সব অংশীজনের (Stakeholders) সঙ্গে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্যের স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে সব পক্ষের সমন্বয়ে একটি কার্যকর রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে এই বন্দর সচল করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, "প্রযুক্তিগত ও দাপ্তরিকভাবে বন্দরটি খোলা থাকলেও এতদিন নিরাপত্তার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে বর্তমানে পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পণ্যবাহী যান চলাচল ও সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি।"
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উদ্দিনসহ বিভিন্ন সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তারা। বন্দর পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বিকেলে টেকনাফ ত্যাগ করেন।

0 মন্তব্যসমূহ