মহিলার গোপণ জায়গায় মিলল ১ হাজার ইয়াবা

 


বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ ও নয়নাভিরাম মেরিন ড্রাইভ সড়ক। পর্যটকদের স্বপ্নের এই রুটটিকে মাদক পাচারের নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে সিন্ডিকেটগুলো। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কড়া নজরদারিতে ধরা পড়েছে ইয়াবার এক চালান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে দরিয়ানগর এলাকায় চালানো এক অভিযানে ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক হাজার পিস ইয়াবা। এই ঘটনায় এক নারীকে আটক করা হয়েছে।

আটক নূর বেগম (৩৫) টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা।

যেভাবে চলল অভিযান

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি-র একটি আভিযানিক দল মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর এলাকায় ওত পেতে থাকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-খ-১২-৮৭৩৫) সেখানে পৌঁছালে সংকেত দিয়ে সেটি থামানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে গাড়ির পেছনের সিটে বসা কালো বোরকা পরিহিত নূর বেগমের আচরণে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়।

পরবর্তীতে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তার হাতে থাকা আকর্ষণীয় একটি গোলাপী রঙের ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর থেকে ইয়াবার চালানটি উদ্ধার করা হয়।

পাচারের ধরণ

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, মাদক পাচারকারীরা এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে। নূর বেগমের ব্যাগের ভেতর একটি কালো পলিথিনে অত্যন্ত সুকৌশলে পাঁচটি নীল রঙের জিপারযুক্ত প্যাকেট রাখা ছিল। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।


ডিএনসির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মন্ডল জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধারণা করা হচ্ছে নূর বেগম একজন পেশাদার বাহক এবং তিনি এই ইয়াবা পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন।

এই ঘটনায় নূর বেগমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কক্সবাজার সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদক পাচার রোধে মেরিন ড্রাইভসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত তল্লাশি ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ