নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা সৈকত এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া দোকান পুনরায় স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদল নেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ফেসবুকে ছাত্রদল নেতার অভিযোগ ঘটনার সূত্রপাত হয় ছাত্রদল নেতা আলমগীর চৌধুরীর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। আলমগীরের অভিযোগ, সুগন্ধা সৈকতে তাঁর মামার উচ্ছেদ হওয়া দোকানটি পুনরায় বসাতে গেলে স্থানীয় ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের এক নেতা তাঁর কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আলমগীর আরও দাবি করেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো ফল হয়নি; বরং সরাসরি কথা বলার সময়ও ওই নেতা তাঁর দাবিতে অনড় থাকেন।
যুবদল নেতার পাল্টা দাবি অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন যুবদল নেতা শাহনেওয়াজ শান। তাঁর ভাষ্যমতে, গত ৫ মার্চ প্রশাসনের নির্দেশে সুগন্ধা সৈকতের সব অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং সেখানে পুনরায় দোকান বসানোর কোনো অনুমতি নেই। শানের পাল্টা অভিযোগ, ঈদ মৌসুমে সেখানে কিছু ব্যবসায়ী গোপনে দোকান বসাতে চাইলে উল্টো আলমগীর চৌধুরীই তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছিলেন।
শাহনেওয়াজ শান আরও জানান, সম্প্রতি আলমগীর দলবল নিয়ে ওই এলাকা দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েন। সেই ঘটনার ভিডিও প্রমাণ তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ভিডিও ও প্রমাণের লড়াই পাল্টাপাল্টি এই ভিডিও এবং অভিযোগের লড়াই গড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যন্ত। আলমগীর চৌধুরী তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে ভিডিওর কথা বলা হচ্ছে, সেটি ভালো করে যাচাই করলেই বোঝা যাবে সেখানে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো কোনো উপাদান নেই। ভিডিওতে মূলত তিনি তাঁর দাবির স্বপক্ষেই কথা বলছিলেন বলে তাঁর দাবি।
অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা ও স্থানীয়দের উদ্বেগ উভয় পক্ষের এই অনড় অবস্থান এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে সুগন্ধা সৈকত এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যটন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টে দুই সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের এমন মুখোমুখি অবস্থানে যেকোনো মুহূর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে বিএনপির জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিনিয়র নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
0 মন্তব্যসমূহ