এসআই সুষ্ময়ের বিরুদ্ধে এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ: ডাকাতের সঙ্গে ‘সখ্য’ ও তদন্তে গাফিলতির দায়



##কক্সবাজার জেলা বিএনপি নেতার মৎস্য প্রজেক্ট দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদত দেওয়ার অভিযোগ; বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি




নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:

কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই সুষ্ময় দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবার গড়িয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত। এক মৎস্য প্রজেক্ট দখলকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার না করে উল্টো তাকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম. মমতাজুল ইসলাম। 


গত ১৬ মার্চ দায়ের করা একটি দ্রুত বিচার আইনের মামলার তদন্তভার ‘কৌশলে’ নিজের হাতে নিয়ে আসামিকে এলাকা ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।


অভিযোগের নেপথ্যে যা আছেঃ

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে মমতাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে তাঁর পৈত্রিক মৎস্য প্রজেক্ট ও লবণ মাঠ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘ডাকাত জিয়া’ হিসেবে পরিচিত চিহ্নিত সন্ত্রাসী জিয়াউল হক ও তার বাহিনী জোরপূর্বক দখল করে নেয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর জিয়া আত্মগোপনে চলে গেলে মমতাজুল ইসলাম তাঁর প্রজেক্ট পুনরুদ্ধার করেন। তবে সম্প্রতি ওই সন্ত্রাসী বাহিনী পুনরায় প্রজেক্টটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে শ্রমিকদের মারধর ও লুটপাট চালায়।

এই ঘটনায় গত ১৬ মার্চ কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা (নং-৪৬/১৭৬) দায়ের করা হয়। মামলার প্রধান আসামি করা হয় জিয়াউল হক প্রকাশ ইয়াবা জিয়াকে।


তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগঃ

বাদী মমতাজুল ইসলামের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী মামলার তদন্তভার অন্য কর্মকর্তার পাওয়ার কথা থাকলেও এসআই সুষ্ময় দাশগুপ্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং ওসিকে ভুল বুঝিয়ে মামলার তদন্তভার নিজের কাছে নেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসআই সুষ্ময় ও প্রধান আসামি জিয়ার ছোট ভাই চট্টগ্রামে পড়াশোনাকালীন সহপাঠী ছিলেন। এমনকি এসআই সুষ্ময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উচ্চপদে আসীন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সখ্যের সুবাদেই তিনি আসামিকে গ্রেপ্তার না করে প্রকাশ্যে ঘোরার সুযোগ করে দিচ্ছেন।


আইনি বাধ্যবাধকতা ও বাদীর আরজিঃ

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামি এলাকায় প্রকাশ্যে অবস্থান করার তথ্য বারবার পুলিশকে দেওয়া হলেও এসআই সুষ্ময় কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায়, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অবিলম্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন এবং এসআই সুষ্ময় দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।



এর আগে কলাতলী এলাকায় অন্য একটি ঘটনায় বিতর্কিত ভূমিকার জন্য এসআই সুষ্ময়কে সদর থানা থেকে উখিয়ায় বদলি করা হয়। তবে নতুন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত’ বলে দাবি করেছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ