ভাইরাল হলে নড়েচড়ে বসে কক্সবাজারের পুলিশ প্রশাসন; দুই দিনে গ্রেপ্তার মোট ২২



 কক্সবাজারে সাঁড়াশি অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১৫: ধরা পড়ল সেই ‘ভাইরাল’ ছিনতাইকারী দুজনও

##ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন; দুই দিনে গ্রেপ্তার মোট ২২


কক্সবাজার প্রতিনিধি |

কক্সবাজার শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে পুলিশের এক বিশেষ সাঁড়াশি (চিরুনি) অভিযানে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্রের ১৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু মারাত্মক ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।


মূলত দুদিন আগে শহরের লাইট হাউজ পাড়ায় দিন-দুপুরে পর্যটকদের গলায় ছুরি ধরে সর্বস্ব লুট করে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী পর্যটকেরা অভিযোগ করেছিলেন যে, ট্যুরিস্ট পুলিশ বা সদর থানায় গিয়ে তারা তাৎক্ষণিক কোনো সহযোগিতা পাননি। এ নিয়ে পুলিশের অবহেলা এবং অপরাধীদের সঙ্গে সখ্যতার গুঞ্জনও ওঠে। সিসিটিভি ফুটেজসহ ভুক্তভোগীদের আকুতিভরা সেই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন।


পুলিশ জানিয়েছে, আলোচিত ওই পর্যটক ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল হোতা দুজনকে এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো—খায়রুল আমিন প্রকাশ মুন্না এবং আব্দুর শুক্কুর। সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বাজারঘাটা, নাপিতাপুকুর, কটেজ জোন ও সুগন্ধা পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সুগন্ধা কটেজ জোনে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ওপর হামলায় জড়িতরাও রয়েছে।


অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলো: খায়রুল আমিন (২৯), আব্দুর শুক্কুর (২৪), মোঃ আরমান (১৯), জাহেদুল ইসলাম জাহেদ (২৭), মাহাবুব আলম (২২), মোঃ মনোয়ার হোসেন (২৮), মোঃ রাজু (২০), রশিদ মিয়া (৩০), রাসেল উদ্দিন সোহেল রানা (৩৩), আব্দুর শুক্কুর (৩০), মোঃ আজাদ (৩৮), নজরুল ইসলাম (৫৮), রমজান (২০), মোঃ রাশেদ (২২) ও মোঃ রুবেল হোসেন (২৩)।


এদিকে পুলিশের এই তড়িৎ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের দাবি, কোনো অপরাধের ভিডিও ভাইরাল হলে প্রশাসন কেবল দায় এড়াতেই এমন ঝটিকা অভিযান চালায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানে অনেক অপরাধী ধরা পড়লেও তারা আইনের ফাঁকফোকর গলে মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই জামিন নিয়ে বের হয়ে আসে এবং আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হয়। অপরাধীদের এই চক্র ভাঙতে দীর্ঘমেয়াদি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের অনেকের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগের দিনও একই ধরনের অভিযানে আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ফলে গত দুই দিনে মোট ২২ জন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শহরের শান্তি বজায় রাখতে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ