সৌদিতে ট্রাভেল এজেন্সির অর্ধকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা চকরিয়ার ফোরকান



মালিকের ‘মানবিকতার’ সুযোগ নিয়ে ক্যাশ লুটে চম্পট ম্যানেজার; দিশেহারা প্রবাসী ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে যাকে আশ্রয় ও চাকরি দিয়েছিলেন, সেই বিশ্বস্ত কর্মচারীর হাতেই চরম প্রতারণার শিকার হলেন সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন। মক্কার কাকিয়া বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ‘স্কাইজোন ট্রাভেল এজেন্সি’ থেকে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ লাখ ২১ হাজার টাকা) নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার ফোরকান উদ্দিন। ফোরকান কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল ইসলামের ছেলে।


ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের লরাবাগ এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মক্কায় বিমান টিকেট, ভিসা প্রসেসিং এবং কার্গো সার্ভিসের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গিয়াস উদ্দিন জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি অফিসের বাইরে থাকার সুযোগে ফোরকান ক্যাশে থাকা টিকেট বিক্রির এবং বিভিন্ন গ্রাহকের জমাকৃত বিপুল পরিমাণ রিয়াল নিয়ে পালিয়ে যান। তিন মাস আগে ‘বেকার ও অসহায়’ ফোরকানকে অনেকটা দয়া করেই ম্যানেজার পদে ২৫০০ রিয়াল বেতনে নিয়োগ দিয়েছিলেন গিয়াস। কিন্তু তিন মাসের মাথায় বিশ্বাস অর্জন করে তিনি এই বড় ধরনের চুরির কাণ্ড ঘটালেন।

ঘটনার পর গিয়াস উদ্দিন মক্কা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, পলাতক ফোরকান বর্তমানে সৌদি আরবের সীমান্ত এলাকা জিজানে অবস্থান করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে তিনি জিজান সীমান্ত দিয়ে বা অন্য কোনো পথে বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করবেন। গিয়াস উদ্দিন দাবি জানিয়েছেন, ফোরকান দেশে প্রবেশের সাথে সাথেই যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে এবং লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এই ন্যক্কারজনক ঘটনার ফলে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রবাসীরা বলছেন:

  • এ ধরনের প্রতারণার কারণে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

  • মালিকরা এখন কোনো বাংলাদেশিকে বিশ্বাস করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দিতে ভয় পাচ্ছেন।

  • এর ফলে নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, "আমি ওকে না খেয়ে পথে পথে ঘুরতে দেখে সাহায্য করেছিলাম। সেই বিশ্বাসের প্রতিদান ও এভাবে দেবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। আমি চাই দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ