কক্সবাজারে বিএনপির সমাবেশ থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার সাংবাদিকেরা



নিজস্ব প্রতিবেদক::


কক্সবাজারে বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশ থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকের উপর হামলায় জড়িত চিহ্নিত দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের দাবী উঠেছে। 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া গোল চত্বরে হামলায় গুরুতর জখম হন সংবাদকর্মী মোহাম্মদ ফেরদৌস (৪২)। তিনি দৈনিক গণসংযোগ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও আরটিভির কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি সাইফুর রহিম শাহীনের সাপোর্টিং স্টাফ (ক‍্যামরাপার্সন) হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি দুইদিন ধরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। 


অভিযোগে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে বিএনপির জনসভার সংবাদ সংগ্রহ শেষে অফিসে ফেরার জন্য অটো রিকশায় উঠেন সাংবাদিক শাহীন ও সহকর্মী ফেরদৌস। এসময় জুয়েল নামের এক যুবক তার গায়ে অটোরিকশা লাগার অজুহাতে বয়োবৃদ্ধ চালককে মারতে উদ‍্যত হয়। এতে বাধা দিলে ফেরদৌসের  সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয় জুয়েল, সোহেল, শিমুলসহ ১০/১২ জন। একপর্যায়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই ফেরদৌসকে তারা এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে।


দুর্বৃত্তদের কবল হতে উদ্ধার হতে মুঠোফোনে সহকর্মীদের ডাকার চেষ্টা করলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে ফেরদৌস মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ক‍্যামরার ট্রাইপড ও লাঠি নিয়ে বেদম প্রহারের কারণে ফেরদৌসের মাথা, বাম চোখ ও মুখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। 

কর্তব‍্যরত ডাক্তার জানান, মাথায় ও চোখে আঘাতের কারণে তাকে সিটিস্ক‍্যান ও এক্সরে করা হয়েছে। রিপোর্টের পর আঘাত কতটুকু গুরুত্বর তা জানা যাবে।


এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হামলাকারীদের মধ্যে আমির সোহেল নামে ঐ যুবক কক্সবাজার পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আওতাধীন ১১ নং ওয়ার্ড (দক্ষিণ শাখা) এর সাধারণ সম্পাদক।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ফেরদৌস জানান, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে নগদ ১৭ হাজার ২ শ' টাকা ও মোবাইল লুট করেছে, ভাংচুর করা হয়েছে ক‍্যামরা ও ক‍্যামরার ট্রাইপড। 


সঙ্গে থাকা দৈনিক গণসংযোগের সম্পাদক ও প্রকাশক এবং আরটিভির জেলা প্রতিনিধি  সাইফুর রহিম শাহীন বলেন, সাংবাদিক পরিচয় জেনে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বেশী মারধর করেছে। এ বিষয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ সুপার ও কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ছমিউদ্দিনকে তাৎক্ষণিক অবহিত করা হয়। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে সেনাবাহিনীর টহল টিম ও পুলিশের একটি টিম পরিদর্শন করেছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ ছমিউদ্দিন বলেন, 'আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর সাথে সাথে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পুলিশের একটি টিম পাঠিয়েছি। এজাহার পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। কর্মরত সাংবাদিকরা হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ