প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তৌহিদুল কাদেরের অভিনন্দন

 


নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ দরগাহ মাজার জাতীয় সমন্বয় কমিটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব শাহ মোহাম্মদ তৌহিদুল কাদের চৌধুরী। 


এক বিবৃতিতে তিনি  বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এই বিজয় কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এটি স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ম্যান্ডেট। বিগত দিনগুলোতে দেশে বাকস্বাধীনতা এবং ধর্মীয় আচরণের স্বাধীনতায় যে হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল, জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নবনির্বাচিত সরকার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য—সুফিবাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা—বিকাশেও কাজ করবে। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ফিরিয়ে আনাই হবে নতুন সরকারের কাছে মূল প্রত্যাশা।


তিনি মাজার ব্যবস্থাপনা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ মাসে সুকৌশলে দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ এমন সব গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যারা আদর্শিকভাবে মাজার ও সুফিবাদের বিরোধী। মাজার বা দরগাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যদি মওদুদিবাদী বা আহলে হাদিস পন্থীরা থাকেন, তবে তা ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি করে। কারণ, যারা মাজারে জিয়ারত বা ওলীদের অসিলায় বিশ্বাসী নন, তারা কখনই মাজারের উন্নয়ন বা পবিত্রতা রক্ষায় আন্তরিক হতে পারেন না। বরং তারা প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে সুফি সংস্কৃতিকে সংকুচিত করার চেষ্টা করেন। ঢাকাসহ সারাদেশের মাজারগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, এর নীতি-নির্ধারণী কমিটি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অবিলম্বে পরিবর্তন আনতে হবে। সেখানে এমন আলেম ও প্রশাসকদের নিয়োগ দিতে হবে যারা সুফি মতাদর্শ ধারণ করেন এবং এই সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশের সুফিবাদের ইতিহাসে একটি বিরল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের রয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের দরগা মাজার এবং দের খেদমতে নিজেদেরকে সবসময় রেখেছিলেন, আজকের এই মহেন্দ্র কনে তাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি রোজার মাগফেরাত কামনা করছি।


বিবৃতিতে বলা হয়,  সাম্প্রতিক সময়ে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’-এর ধুয়া তুলে বা সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুফি সাধক, বাউল শিল্পী এবং মাজার ভক্তদের গ্রেপ্তারের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাউল গান এবং সুফি সাধনা বাংলার লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’। অথচ, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্ররোচনায় প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে নিরীহ সাধকদের ওপর চড়াও হয়েছে। সভায় স্পষ্টভাবে বলা হয়, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু ভিন্নমতের কারণে কাউকে কারাগারে নিক্ষেপ করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। অবিলম্বে মিথ্যা মামলায় আটক সকল বাউল ও সুফি সাধকদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কোনো সাধককে হয়রানি করতে না পারে, সেজন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নবগঠিত সরকারের প্রতি আহবান জানানে হয়।


নবনির্বাচিত সরকারকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই যে, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন এবং মানুষের ‘অর্থনৈতিক মুক্তি’ অর্জনে আমাদের সংগঠন সরকারকে সব ধরণের গঠনমূলক সহযোগিতা প্রদান করবে।


তিনি আসন্ন পবিত্র রমজান ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাজারগুলোতে যেন প্রকৃত আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় থাকে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ