‘বিজয় মানে প্রতিহিংসা নয়, মহানুভবতায় উদযাপন করুন’; দলীয় কর্মীদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
নির্বাচনী লড়াই শেষে এবার মাঠের শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান কাজল। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কেউ চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে তাঁকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এমন সাহসী কাজের জন্য পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন এই নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স সাফল্যের মুকুট মাথায় পরেই লুৎফুর রহমান কাজল স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনগণের স্বস্তি ও নিরাপত্তাই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকায় কেউ যদি চাঁদাবাজির চেষ্টা করে, তবে তাঁকে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। এই সাহসিকতার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হবে।” তবে তিনি আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সরাসরি পুলিশকে জানানোর জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ করেছেন।
প্রতিহিংসা নয়, বিজয় হোক মহানুভবতার নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে নেতা-কর্মীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে কাজল বলেন, “বিজয় মানে প্রতিপক্ষকে হেয় করা বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা নয়। মহানুভবতা ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বিজয় উদযাপন করুন।” তিনি মনে করিয়ে দেন, সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার প্রতিটি নাগরিকের—তাঁরা যে দলেরই হোক না কেন—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর নৈতিক ও পবিত্র দায়িত্ব।
দলীয় কর্মীদের প্রতি সংযত থাকার নির্দেশ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে সহনশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন লুৎফুর রহমান কাজল। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ বরদাশত করা হবে না। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সাধারণত বিজয়ী পক্ষের উগ্রতা বা প্রতিহিংসার চিত্র দেখা গেলেও কাজলের এমন প্রকাশ্য অবস্থান স্থানীয় সচেতন মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির এমন দায়িত্বশীল ঘোষণা এলাকায় শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
0 মন্তব্যসমূহ