বালুখালীতে শীর্ষ ডাকাত ‘জুলু’র আস্তানায় হানা; একে-২২ ও বিদেশি পিস্তলসহ দুর্ধর্ষ আমিন ও দেহরক্ষী গ্রেপ্তার বালুখালীতে শীর্ষ ডাকাত ‘জুলু’র আস্তানায়





কক্সবাজার প্রতিনিধিলঃ 

কক্সবাজারের উখিয়ায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশেষ যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে উপজেলার বালুখালী ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এই সফল অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি ‘জুলু ডাকাত’-এর ছেলে আমিন এবং তার দেহরক্ষী জানে আলম রয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ কে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।


সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, বালুখালী এলাকায় একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ অবস্থান করছে—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১০ পদাতিক ডিভিশনের একটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। সেনাবাহিনীর সাথে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানাটি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিন, তার দেহরক্ষী জানে আলম এবং তাদের আরও একজন সহযোগী।


অভিযান শেষে সন্ত্রাসীদের ওই গোপন আস্তানা থেকে রীতিমতো অস্ত্রের ভাণ্ডার উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী, যার মধ্যে ১টি অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেল, ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি দেশীয় পিস্তল ও ২টি একনলা বন্দুকসহ বিপুল গোলাবারুদ রয়েছে। জব্দকৃত সরঞ্জামের তালিকায় আরও রয়েছে ৩টি ম্যাগাজিন, ৮৯ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৪ রাউন্ড পিস্তল অ্যামুনিশন ও ২টি কার্তুজ; এছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের মধ্যে সুসমন্বয় ও যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ২টি ওয়াকি-টকি সেট এবং ২টি দেশীয় ধারালো অস্ত্রও এসময় উদ্ধার করা হয়।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত আমিন ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া ও তৎসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বিশেষ করে আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা বড় ধরনের নাশকতার ছক কষছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গ্রেপ্তারের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের পূর্বের অপরাধের রেকর্ডও যাচাই করা হচ্ছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ