কক্সবাজারে নির্বিঘ্ন ভোট নিশ্চিতে বিমান বাহিনীর কড়া নজরদারি




কক্সবাজার প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট ঘিরে কক্সবাজারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। 

দেশব্যাপী সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই কক্সবাজারের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্ট ও ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিমান বাহিনীর সদস্যদের সশস্ত্র টহল দিতে দেখা গেছে। মূলত নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার পরিবেশ তৈরি করতেই এই তৎপরতা।


সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি ‘কক্সবাজার’-এর পার্শ্ববর্তী এলাকা ও এর আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে টহল দিচ্ছে বিমান বাহিনীর চৌকস দল। ঘাঁটির আশপাশের প্রধান সড়ক, প্রবেশপথ এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকার সংযোগস্থলগুলোতেও নজর রাখছেন তাঁরা। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা রুখতে আকাশপথের পাশাপাশি স্থলপথেও বিশেষ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।


নিরাপত্তা বাহিনীর এই শক্ত অবস্থানের ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। বাহারছড়া ও সদর এলাকার কয়েকজন ভোটার জানান, বিমান বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর নিয়মিত টহলের কারণে তাঁরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারছেন।

"সকাল থেকে বিমান বাহিনীর গাড়ি ও সদস্যদের টহল দেখে আমাদের সাহস বেড়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা হওয়ার ভয় ছাড়াই ভোট দিয়ে আসলাম,"—বলছিলেন শহরের এক প্রবীণ ভোটার।


বিমান বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে তাঁরা কাজ করছেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং হেলিকপ্টার সাপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে তাঁরা সদা প্রস্তুত রয়েছেন।

নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বিমান বাহিনীর এই বিশেষ টহল কার্যক্রম ও কড়া নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ