নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
কক্সবাজার সদর উপজেলায় এক সাংবাদিককে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর ভয়ংকর এক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অভিযানে দুই ভাই ও এক নারীকে জড়িয়ে সাজানো এই নাটকের মূল হোতাকে আটক করার পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে দুটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও কার্তুজ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সদর উপজেলার দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে কক্সবাজার সদর আর্মি ক্যাম্পের অধীন ৯ ইস্ট বেংগলের একটি বিশেষ দল দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় অভিযান চালায়। একটি বসতবাড়ির পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ২টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এটি সাধারণ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান মনে হলেও সেনাবাহিনীর তীক্ষ্ণ গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে আসে এক গভীর ষড়যন্ত্রের চিত্র।
তদন্তে জানা যায়, ওই এলাকার সাংবাদিক ফরহাদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘ দুই বছর ধরে মারুফ হাসান তাহসিন ও অজুফা বেগমদের বিরোধ চলছিল। ফরহাদের বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে তাঁকে ঘায়েল করতে পরিকল্পিতভাবে বাড়ির পাশে অস্ত্রগুলো রেখে আসা হয়েছিল, যাতে সেনাবাহিনী তল্লাশি করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মূলত ফরহাদকে সমাজ ও প্রশাসনের চোখে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাই ছিল এই চক্রের লক্ষ্য।
সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আটক মারুফ হাসান তাহসিন এই ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে সাংবাদিক ফরহাদকে মিথ্যা মামলায় জড়াতেই তাঁরা এই পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে আটক মারুফকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই চক্রের আরেক সদস্য অজুফা বেগমের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সাংবাদিক ফরহাদ দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। বারবার মিথ্যা মামলা ও হামলার মাধ্যমে তাঁকে নিরাপত্তাহীনতায় রাখা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর এই নিরপেক্ষ ও দক্ষ তদন্তের ফলে একজন নিরপরাধ ব্যক্তি বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এছাড়া আটক ব্যক্তি বিএনপির ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
৯ ইস্ট বেংগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তাদের টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

0 মন্তব্যসমূহ