গৌরবময় চার দশক পেরিয়ে ৪১ বছরে ‘দৈনিক পূর্বকোণ’: কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

 


গৌরবময় চার দশক পেরিয়ে ৪১ বছরে ‘দৈনিক পূর্বকোণ’: কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন
##‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় পূর্বকোণ পথিকৃৎ, পর্যটন বিকাশেও রাখছে অনন্য ভূমিকা’: অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ

 কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
আধুনিকতা, মুক্তচিন্তা ও সুস্থ ধারার বার্তা নিয়ে ১৯৮৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করা ‘দৈনিক পূর্বকোণ’ আজ ৪১তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। অগণিত পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসায় দেশসেরা আঞ্চলিক পত্রিকার স্বীকৃতি পাওয়া এই সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হয়।

এই চল্লিশ বছরে আমরা পূর্বকোণ পরিবার হারিয়েছে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী ও সম্পাদক স্থপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী সহ অনেককে।   প্রচার ও প্রশারে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী। তার দূরদর্শিতায় দৈনিক পূর্বকোণের আজকের এই সফলতা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “দৈনিক পূর্বকোণ কেবল একটি পত্রিকা নয়, একটি ব্র‍্যান্ডিং প্রতিষ্টানে পরিণত হয়েছে যা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার এক অনন্য পথিকৃৎ। বিশেষ করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও সম্ভাবনাকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরতে এই হাউসের সাংবাদিকরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। দেশ বিনির্মাণে এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পূর্বকোণ অতীতের মতোই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমার দৃড় বিশ্বাস।”

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্মৃতিকাতর হয়ে বলেন, পূর্বকোণের বয়স আর আমার বয়স কাছাকাছি। ছোটবেলা থেকেই এই পত্রিকা পড়ে বড় হয়েছি। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের কথা বলার জন্যে দৈনিক পূর্বকোণের মাধ্যমে পেতাম। যদিও জাতীয় ও অন্যান্য দৈনিকে চট্টগ্রাম শহর ও বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের খবর উঠে আসতো না কিন্তু পূর্বকোণে ছিলো সেসব সংবাদ প্রকাশে বদ্ধপরিকর এখনও।   চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবিগুলো তুলে ধরতে পূর্বকোণের যে সাহসী ভূমিকা, তা চার দশক ধরে অক্ষুণ্ণ রয়েছে। সত্যের পক্ষে পূর্বকোণের এই অবিচল অবস্থান সংবাদপত্রের ইতিহাসে বিরল।”

কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন, “অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ঐক্য গড়ে তুলতে এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পূর্বকোণ একটি মডেল। এর সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা।”

দৈনিক পূর্বকোণের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি এরফান হোছাইনের আয়োজনে এবং ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোরশেদুর রহমান খোকন, আরটিভির জেলা প্রতিনিধি সাইফুর রহমান শাহীন, জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার এইচ এম এরশাদ, এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার ইকরাম চৌধুরী টিপু এবং মোহনা টিভির আমিনুল ইসলাম বাবুল সহ অনেকেই।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রামু প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমির হোছাইন হেলালী, দৈনিক কক্সবাজারের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার তাজুল ইসলাম পলাশ ও বেদারুল ইসলাম, সমুদ্রকন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার জয় বৈদ্য, সংবাদ সারাবেলার স্টাফ রিপোর্টার অন্তর দে বিশাল, চ্যানেল এস এর জেলা প্রতিনিধি আবছার, দৈনিক দৈনন্দিনের স্ট্যাফ রিপোর্টার নুরুল ইসলাম, এবং রূপালী সৈকতের বার্তা সম্পাদক এস এম জাফর সহ অর্ধশতাধিক গণমাধ্যমকর্মী।
এছাড়া পূর্বকোণ পরিবারের পক্ষ থেকে রামু প্রতিনিধি এস মোহাম্মদ হোসেন ও উখিয়া প্রতিনিধি কায়সার হামিদ মানিকসহ জেলার বিভিন্ন স্তরের সংবাদকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত চার দশকে পূর্বকোণ কেবল খবর প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং চট্টগ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জনমত গঠনে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, উত্তরোত্তর আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পূর্বকোণ তার জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ