২ মাসের মধ্যে এলসি খোলার শর্ত; পরিশোধিত লবণের প্রমাণ না দিলে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বাজারে লবণের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মোট ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত (ক্রুড) লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। মূলত লবণের বাফার স্টক (মজুত) নিশ্চিত করতে এবং সিন্ডিকেটের কারসাজি রুখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বণ্টন ও আমদানির সময়সীমা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সর্বোচ্চ ৪২৯ মেট্রিক টন করে লবণ আমদানি করার সুযোগ পাবে। আমদানিকারকদের জন্য কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণপত্র (এলসি) খোলার সর্বোচ্চ ২ মাসের মধ্যে আমদানিকৃত লবণের চালান দেশে পৌঁছাতে হবে।
কঠোর শর্তে বিসিকের নজরদারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের চিঠিতে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী:
আমদানিকৃত এই লবণ হবে অপরিশোধিত (Crude)।
আমদানির পর তা অবশ্যই নিজ নিজ কারখানায় পরিশোধন করতে হবে।
পরিশোধিত লবণ ভোজ্য লবণ হিসেবে বাজারজাত করার পর তার স্বপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক) জমা দিতে হবে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান আমদানিকৃত লবণ পরিশোধন না করে সরাসরি বাজারে ছাড়ে কিংবা শর্ত ভঙ্গ করে, তবে ওই প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ (Blacklisted) করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রেক্ষাপট ও বাজার বিশ্লেষণ সাধারণত প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত কক্সবাজার ও বাঁশখালীতে লবণ উৎপাদনের মৌসুম চলে। বিসিকের তথ্যমতে, দেশে লবণের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে স্থানীয়ভাবে লবণ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও, আপৎকালীন মজুত নিশ্চিত করতে সরকার এই নিয়ন্ত্রিত আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তরবঙ্গের চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লবণের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং আসন্ন রমজানে চাহিদা বৃদ্ধির আগেই এই ১ লাখ টন লবণ বাজারে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে স্থানীয় লবণ চাষিরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমদানির পরিমাণ খুব বড় রাখা হয়নি এবং প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সীমিত কোটা (৪২৯ টন) দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের স্থানীয় লবণ চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানিকৃত এই লবণ যেন স্থানীয় লবণের বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে বিসিককে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে।

0 মন্তব্যসমূহ