###ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা; সামাল দিতে না পেরে লাকড়ির চুলায় ফিরছে সাধারণ মানুষ
এরফান হোছাইনঃ
কক্সবাজার শহর ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে হঠাৎ করেই আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে প্রায় দ্বিগুণ দামে গ্যাস বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
এই নৈরাজ্য ঠেকাতে প্রতিদিনের মতো রবিবার (৪ জানুয়ারি) শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রবিবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় সরকারি মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় ‘মেসার্স ওশানিক ট্রেডিং’কে ৩০ হাজার টাকা এবং ‘আবু স্টোর’কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা।
বর্তমানে কক্সবাজারের খুচরা বাজারে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়। অথচ বিইআরসি নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য হওয়ার কথা ১ হাজার ৩০৬ টাকা। অর্থাৎ সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ৮০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা মনজুর রহমান জানান, তাঁরা পাইকারি বাজার থেকেই ১ হাজার ৯০০ টাকায় গ্যাস কিনছেন। এর সঙ্গে পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করলে বাড়তি দাম ছাড়া বিক্রির উপায় নেই বলে তাঁদের দাবি।
কক্সবাজার এলপিজি ব্যবসায়িক মালিক সমিতির সভাপতি সরওয়ার কামাল সিকদার বলেন, “বড় গ্যাস কোম্পানিগুলো এলসি (ঋণপত্র) খুলতে না পারায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিবহনের সময় গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।” তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার আহ্বান জানান।
জানুয়ারি মাসের জন্য বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা। এছাড়া প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়েছে। কিন্তু কক্সবাজারের বাজারে এই নির্ধারিত দামের কোনো প্রতিফলনই নেই। ভোক্তাদের অভিযোগ, দাম কমানোর কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না।

0 মন্তব্যসমূহ