চার দিনের সফরে বের হচ্ছেন তারেক রহমান: নির্বাচনী প্রচার নয়, গন্তব্য শহীদদের মাজার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার
১১ জানুয়ারি শুরু হবে তৃণমূল সফর; কড়া নির্দেশে ব্যানার-ফেস্টুন নিষিদ্ধ; ১২ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যেতে জেলা সফরে বের হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই চার দিনের সফরে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে আসন্ন নির্বাচনের আবহে এই সফরকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বিএনপি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলায় কঠোর অবস্থানে থাকায় এই সফরে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালাবেন না তারেক রহমান।
স্মৃতি তর্পণে শুরু হবে যাত্রা
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান সফরের প্রাথমিক সূচি নিশ্চিত করেছেন। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ায় পৌঁছে সেখানে রাত্রিযাপন করবেন।
জুলাই শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা
সফরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন তারেক রহমান ব্যস্ত সময় কাটাবেন জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ১২ জানুয়ারি বগুড়ার কর্মসূচি শেষে তিনি পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবের অগ্রসেনানী শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর দিনাজপুরে তাঁর নানি তৈয়বা মজুমদারের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।
১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাটে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দোয়া মাহফিলে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফরের শেষ দিন ১৪ জানুয়ারি রংপুরের গাবতলী হয়ে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।
নির্বাচনী আচরণবিধিতে বিশেষ সতর্কতা
তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে যেন কোনোভাবেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে বিএনপি। আতিকুর রহমান জানান, “এটি মূলত একটি মানবিক ও আধ্যাত্মিক সফর। নেতাকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনো নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন বা তোরণ নির্মাণ না করা হয়।”
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত একটি পত্রে ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুরসহ সংশ্লিষ্ট ১২টি জেলার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের এই সফরসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। পত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
তৃণমূলে নতুন উদ্দীপনা
যদিও এটি রাজনৈতিক জনসভা বা নির্বাচনী প্রচারণা নয়, তবুও দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ নেতাকে সরাসরি কাছে পাওয়ার খবরে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তারেক রহমান মূলত দলের নৈতিক অবস্থান ও সংহতির বার্তা দিতে চাইছেন।
দলীয় সূত্রগুলো আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, উত্তরবঙ্গের এই সফরের পর কক্সবাজারসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।
0 মন্তব্যসমূহ