নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে কক্সবাজারে বড় ধরনের শক্তির মহড়া দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) কক্সবাজার সফর করবেন দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে এবং বাহারছড়া মুক্তিযোদ্ধা মাঠে অন্তত ৫ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দলটি।
জেলা জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে মহেশখালীতে আয়োজিত পৃথক এক জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন ডা. শফিকুর রহমান। কক্সবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা এই সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন এবং এখান থেকেই নির্বাচনী প্রচারণার চূড়ান্ত বার্তা দেবেন আমীর।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সারা দেশের মতো কক্সবাজারের ৪টি আসনেই ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে অভূতপূর্ব গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। এই জোয়ারকে নস্যাৎ করতে একটি চক্র নানামুখী অপপ্রচার ও হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমীরের এই সফর সেই ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য এক দাঁতভাঙা জবাব হবে।”
বিশাল এই সমাবেশকে সুশৃঙ্খল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জামায়াতের নিজস্ব ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। জেলার ৯টি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দেবেন। জামায়াত নেতাদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সফরের মাধ্যমে কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে জামায়াতের এই অবস্থানকে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জেলার চারটি আসনেই জামায়াত শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে। বিশেষ করে মহেশখালী-কুতুবদিয়া এবং কক্সবাজার সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। জামায়াত আমীরের এই সফর মূলত সেই জনমতকে ভোটে রূপান্তর করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্যসমূহ