আইবিপি মাঠে পৌরসভার জমি দখল: বিএনপি ‘নির্বাচনী অফিস’ এখন দখলের ঢাল
রাতারাতি দোকানঘর নির্মাণ, প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল বলছেন— তিনি ‘জানেন না’
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার: কক্সবাজার শহরের আইবিপি মাঠ সংলগ্ন পৌরসভার মূল্যবান জায়গা রাতারাতি দখল করে নিয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ উঠেছে, দখলবাজি নির্বিঘ্ন করতে তারা কৌশলে ‘বিএনপির নির্বাচনী অফিস’ ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের সাইনবোর্ড ব্যবহার করছে। মূলত দোকানঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে সরকারি এই জমিটি সেমিপাকা করা হলেও, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করায় চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে স্থানীয় বিএনপি।
নির্বাচনী আবহে দখলের মহোৎসব সরেজমিনে দেখা গেছে, আইবিপি মাঠের এক কোণে পৌরসভার খালি জায়গায় তড়িঘড়ি করে টিনশেড ও সেমিপাকা ঘর তুলে ফেলা হয়েছে। কক্ষটির সামনে ও চারপাশে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো। অথচ ওই এলাকায় যাতায়াতকারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এটি কোনো দলীয় কার্যালয় নয়, বরং নির্বাচনের সুযোগ নিয়ে জায়গাটি ব্যক্তিগত দখলে নেওয়ার একটি কৌশল মাত্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘোনাপাড়ার বাসিন্দা কায়সার, মেজবাহ ও দিদারের নেতৃত্বে এই দখলবাজি চলছে। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার দু-একজন অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে তারা এই দুঃসাহস দেখিয়েছেন।
বিব্রত দলীয় নেতৃত্ব কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এ ধরনের কোনো কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে তিনি বা তার প্রধান নির্বাচনী টিম কিছুই জানেন না। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে যারা ব্যক্তি স্বার্থে সরকারি জমি দখল করছে, তাদের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
পৌরসভার পদক্ষেপ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শামীম আল ইমরানকে মুঠোফোনে পাওয়া না গেলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “এর আগেও আমরা একই জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিলাম। নতুনভাবে যারা দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে পৌর প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। সরকারি জমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।”
আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণ নির্বাচনী আচরণবিধি বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের মতে, জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এমন কোনো জায়গা বা সরকারি জমিতে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা কার্যালয় স্থাপন করতে পারেন না। নির্বাচনের এই সময়ে প্রশাসনের উদাসীনতাকে কাজে লাগিয়ে যারা জমি দখল করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
0 মন্তব্যসমূহ