‘প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণায় কর্মকর্তাদের হাততালি প্রমাণ করে প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসররা সক্রিয়’
কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত নেতা হামিদ আযাদের সংবাদ সম্মেলন; আদালত অবমাননার মামলাকে ‘অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা আসার পর উপস্থিত কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে ‘হাততালি’ দিতে দেখা গেছে, যা প্রশাসনের অপেশাদার ও ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় কক্সবাজারে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ড. আযাদ এসব কথা বলেন।
‘আদালত অবমাননা কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়’
ড. হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর মনোনয়ন বাতিলের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের তথ্য নেই। যে মামলাটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা একটি ‘আদালত অবমাননার’ মামলা। এটি কোনো নৈতিক স্খলন বা ফৌজদারি অপরাধের সংজ্ঞায় পড়ে না।”
তিনি আরও যুক্তি দেন যে, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এই একই ইস্যু উত্থাপিত হয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন রিটার্নিং অফিসার আইনি পর্যালোচনা শেষে একে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য করেননি। এমনকি ২০১৩ সালে সাজা ঘোষণার পরও তিনি প্রায় দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে ড. আযাদ প্রশাসনের আচরণকে ‘রহস্যজনক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “যাচাই-বাছাইয়ের বিরতির সময় আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে তাঁর পিটিশন গ্রহণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। নিরপেক্ষতা বজায় রাখা যাদের দায়িত্ব, তাদের সামনেই এমন বৈষম্যমূলক আচরণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।”
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর যখন কিছু কর্মকর্তা হাততালি দেন, তখন এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনও সক্রিয়। যারা নিরপেক্ষ হতে পারেন না, তারা জাতির জন্য প্রশ্নহীন নির্বাচন উপহার দিতে ব্যর্থ হবেন।”
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ: উচ্চ আদালতের পথে
হামিদুর রহমান আযাদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আইনি লড়াই থেকে পিছিয়ে যাবেন না। তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে পুনরায় শুনানির আবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে ন্যায়বিচার না পেলে তিনি উচ্চ আদালতের (হাইকোর্ট) শরণাপন্ন হবেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া এই নেতা এবারও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন। তাঁর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার নির্বাচনী সমীকরণ নতুন দিকে মোড় নিয়েছে।
0 মন্তব্যসমূহ