কক্সবাজারে ১৯ মামলার আসামী ‘হাসনাত বাহিনী’ প্রধান আটক: উদ্ধার অস্ত্র ও মাদক,
দক্ষিণ রোমালিয়ার ছড়ায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান; শহর ও সৈকত এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানো এই কিশোর গ্যাং লিডারকে নিয়ে স্বস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
কক্সবাজার শহর ও পর্যটন এলাকায় দীর্ঘদিনের আতঙ্ক, চিহ্নিত কিশোর গ্যাং ‘হাসনাত বাহিনী’র প্রধান আবুল হাসনাতকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে শহরের দক্ষিণ রোমালিয়ার ছড়া এলাকায় তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
ভোররাতের ঝটিকা অভিযান
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে শহর ও সমুদ্র সৈকত এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি এবং পর্যটকদের হয়রানি করার অসংখ্য অভিযোগ ছিল। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর রোববার ভোরে সেনাবাহিনী তার বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। তল্লাশিকালে বাড়িটি থেকে ২টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং ৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।
অপরাধের পাহাড়: ১৯ মামলার আসামি
হাসনাতের অপরাধের খতিয়ান পিলে চমকানোর মতো। পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী, এই কিশোর গ্যাং লিডারের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র রাখা, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ মোট ১৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি হত্যা মামলা, ৩টি অস্ত্র মামলা এবং ৬টি ডাকাতি মামলা অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে সে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে তার বাহিনীর মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।
সৈকত এলাকায় স্বস্তি
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, সৈকত এলাকা এবং আশপাশের আবাসিক এলাকায় হাসনাতের অনুসারীরা প্রায়ই সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করত। তার গ্রেফতারের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "এই বাহিনীর অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ ছিলাম। এদের আস্কারা দিয়ে কিছু অসাধু লোক শহরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছিল।"
সেনাবাহিনী ও পুলিশের পদক্ষেপ
গ্রেফতারের পর হাসনাতকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাং এবং মাদক কারবারিদের দমনে এমন বিশেষ অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য মাফিয়া কিং ডনদের আটকের দাবি স্থানীয়দেরঃ
অন্যান্য ভুমিদস্যু, চাদাঁবাজ ও কিলার গ্রুপের অন্যান্য ডনদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রাখলে শান্তি ফিরে আসবে"। এছাড়া কক্সবাজার শহরে হান্ড্রেড স্টার গ্রুপের আশ্রয়দাতা, সন্ত্রাসী, চাদাঁবাজ, খুনীদের আটক করলে অপরাধের মাত্রা অনেকাংশে কমে যাবে। এরা ত্রাস সৃষ্টি করে নিয়মিত অসহায় মানুষ এর জমি দখল সহ নানা অপরাধে জড়িত।

0 মন্তব্যসমূহ