বার্তা পরিবেশকঃ
কক্সবাজার শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের সাব মেরিন ক্যাবলের পিছনে চৌধুরী পাড়া এলাকায় কল্পনা মল্লিক ও রত্না মল্লিক নামে দুই বিধবা সংখ্যালঘু নারীর জমি ও ঘর দখলে বাঁধা দেয়ায় হামলার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার(২২ জানুয়ারি) বিকেলে সাড়ে ৪ টার দিকে দুই বিধবা হিন্দু মহিলার জায়গার ঘরে প্রবেশ করে হামলা ও লুঠপাট করে।
জানা যায়, কল্পনা মল্লিকের স্বামীর খতিয়ানভুক্ত জমি (যা বর্তমানে কল্পনার নামে হেবা করা) দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো শিমুল মল্লিকের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট।
ভুক্তভোগী কল্পনা মল্লিক বলেন, 'আমি ও আমার জা রত্না মল্লিক আমাদের নিজ-নিজ স্বামী হতে প্রাপ্ত জমিতে একটি বাড়ির নির্মাণ কাজ করছি। প্রতিদিনের মতো আজকেও বাড়িতে রাজমিস্ত্রীর কাজ চলছিলো। আমরা আমার দেবরের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শিমুল, দালাল সিরাজ ও সমন্বয়ক-বিএনপি নেতা দাবিদার একরামের নেতৃত্বে একটি দল আমাদের নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় শ্রমিকদের কাজে বাঁধা প্রদান ও হামলা চালায়। বাবুল নামে এক শ্রমিককে রড দিয়ে মেরে গুরুতর আহত করে ও কাজ না করতে হুমকি প্রদান করেন।'
কল্পনা আরও বলেন, এই জমি শ্বশুর থেকে আমার স্বামী ওয়ারিশ সূত্রে পায়। আমার কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় আমার স্বামি এই জমি আমাকে হেবা করে দেন। আমার স্বামি সন্তান কেও না থাকায় এই জমি দখলের পায়তারা শুরু করেন শিমুল মল্লিক। শিমুল মল্লিক আইনি ভাবে ব্যর্থ হলে সিরাজ ও একরাম নামে আরও দুজন ব্যক্তিকে এনে এই জমি তাদের নামে লিখে দিতে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলো। শিমুল এর আগেও বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে আমাদের জায়গায় নির্মাণাধীন স্থাপনায় এসে শ্রমিকদের উপর হামলা চালান, নির্মানাধীন ঘরে লুঠপাট ও হামলা চালায় এবং দীর্ঘদিন ধরে চাদাঁ দাবি করে আসছে।'
তারা এর আগেও এই জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে উল্টো আমাদের নামে এডিএম কোর্টে মামলা করে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঐ মামলাটি বিজ্ঞ আদালত তাদের করা মামলাটি খারিজ করে দেন বিচারক। তারই ক্ষোভের জেরে মূলত এই হামলা চালানো হয়েছে।'
হামলার শিকার বাবুল নামে ঐ কন্ট্রাক্টর বলেন, 'বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আমরা কল্পনা মল্লিকের জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ করছিলাম। বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের সময় শিমুল-সিরাজ ও একরামের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী হঠাৎ গেইট খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। প্রথমেই তারা উচ্চস্বরে গালাগালি করে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এরপর আমরা কাজ বন্ধ রাখলেও তারা বের হওয়ার জন্য পুরোদমে ধাক্কা দিতে থাকেন। এসময় আমরা নির্মাণাধীন ভবন থেকে বের না হলে তারা আমাদের রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। তাতে আমার হাতে আঘাত করলে আমি গুরুতর আহত হই। এরপর আমি জ্ঞান হারালে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।'
এঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ৩জনকে প্রধান ও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিমুল সহ একরামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি ছমিউদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান। এই ঘটনায় কল্পনা মল্লিক একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা তদন্তপুর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

0 মন্তব্যসমূহ