মাদারীপুরে দ্বিতীয় বিয়ে করার জেরে এক ইতালিপ্রবাসীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত স্ত্রী শিউলি বেগমকে (২৯) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নাঈম মাতুব্বর ওরফে হাবিব (৩৫) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দিয়াবাড়ি গ্রামে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নেপথ্য কারণ
পুলিশ ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, নাঈম ও শিউলির দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ ১০ বছরের। তবে বিয়ের কিছুকাল পর থেকেই স্ত্রীর পরকীয়া ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।
ইতালি থেকে ফেরা: প্রায় ৪ মাস আগে নাঈম ইতালি থেকে দেশে ফেরেন।
দ্বিতীয় বিয়ে: দেশে ফেরার পর স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই নাঈম দ্বিতীয় বিয়ে করেন, যা নিয়ে দম্পতির মধ্যে চরম বিরোধ তৈরি হয়।
পরিকল্পিত হামলা: শুক্রবার রাতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শিউলি কৌশলে নাঈমের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। নাঈম গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়লে রাত ৪টার দিকে ব্লেড দিয়ে তাঁর গোপনাঙ্গে আঘাত করেন শিউলি।
চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা
আহত নাঈমকে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াদ মাহামুদ জানান, ব্লেডের আঘাতে নাঈমের গোপনাঙ্গ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে তা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি। উন্নত সার্জারির জন্য তাঁকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ
নাঈমের পরিবারের দাবি, মাত্র চার দিন পরেই তাঁর ইতালি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তাঁর ভাবি শেফালি বেগম জানান, কোল্ড ড্রিংকসের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করেই এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান:
"দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষোভ থেকেই স্ত্রী এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। অভিযুক্ত শিউলি বেগম পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তাঁকে আটক করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।"
আমি কি এই ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে তথ্য দিয়ে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?

0 মন্তব্যসমূহ