চার মাস আগে লামায় বদলি হলেও বহাল তবিয়তে কক্সবাজারে; মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়ে ভুয়া মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অভিযোগ
কক্সবাজার অফিসঃ
প্রায় চার মাস আগে বান্দরবানের লামা ভূমি অফিসে বদলির আদেশ পেলেও কক্সবাজারের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় বহাল তবিয়তে আছেন সার্ভেয়ার সহিদুল হাসান। এই বদলির আদেশ ফাইলবন্দী থাকার সুযোগে তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া দুর্নীতি ও কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, বদলিকৃত এলাকায় পদটি শূন্য থাকায় মারাত্মকভাবে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা।
বদলিকৃত স্থানে শূন্যতা, কক্সবাজারে অনিয়ম
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম অনীক চৌধুরী এক অফিস আদেশে সহিদুল হাসানকে লামায় বদলির নির্দেশ দেন। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও সেই আদেশের কোনো কার্যকারিতা নেই। লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমেদ জানান, তার যোগদানের আগেই সহিদুল হাসান সংযুক্তিতে চলে যান, ফলে উপজেলায় দুইটি সার্ভেয়ার পদের একটিও পূরণ হয়নি। এতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ পড়ে থাকায় অফিস পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কমিশন বাণিজ্যে বেপরোয়া দুর্নীতি
ভূমি অধিগ্রহণ শাখার মূল উদ্দেশ্য 'দলিল যার, জমি ও ক্ষতিপূরণ পাবে মূল মালিক' হলেও সার্ভেয়ার সহিদুল হাসানের কার্যক্রমে এর প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের কমিশন পেলে তিনি সরজমিনে যাচাই না করে ভুয়া দলিলপত্রের ভিত্তিতেও ক্ষতিপূরণের চেক রিলিজ করেছেন। ইতোমধ্যে প্রতিবেদকের হাতে আসা তথ্যে দেখা যায়, এভাবে প্রায় কয়েক কোটি টাকা ভুয়া মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি অফিসের দুর্নীতিগ্রস্ততাকে প্রমাণ করে।
ভুক্তভোগীদের মতে, গত প্রায় তিন বছর সময়কালে সহিদুল হাসান নানা অজুহাতে ক্ষতিপূরণের চেক আটকে রেখে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দালাল বিধান রুদ্র, রাসেল, রিয়াদসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তার এই অনিয়মে হাত রয়েছে। চকরিয়া পালাকাটা মৌজার একটি উদাহরণ তুলে ধরে ভুক্তভোগীরা জানান, বিএস ৮০৯৩ নং দাগের দলিলের জমির পরিমাণ কর্তন করে আওয়ামী লীগ নেতা জামাল হোসেন চৌধুরীকে বেশি জমি দেখিয়ে এক কোটি ৩৭ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে, যা তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে।
উচ্চ মহলের বক্তব্য
সহিদুল হাসানের বদলি কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, "কক্সবাজারে কাজের চাপ বেশি। সেই পরিমাণ লোকবল নেই। প্রয়োজনে ছাড়া হয়নি।" তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, "সরকারি অফিস আদেশ অমান্যের কোনো সুযোগ নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।"
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সার্ভেয়ার সহিদুল হাসান ফোন ধরেননি এবং হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ 'সিন' করেও কোনো উত্তর দেননি। এই ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের কারণেই সার্ভেয়ার সহিদুল হাসান বদলির পরও কক্সবাজার ছাড়তে নারাজ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
0 মন্তব্যসমূহ