আ'লীগের আস্তাভাজন ওসি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মহেশখালীর সাংবাদিক এস এম রুবেলের হুবুহু স্ট্যাটাসটি তুলে ধরলাম:



তৎকালীন মহেশখালী থানার ওসি (তদন্ত) বাবুল আজাদ আমাকে ‘জামায়াত–শিবিরের কর্মী’ ট্যাগ দিয়ে টানা পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখেছিলেন। আমার দোষই বা কী ছিল? অথচ আমি কোন রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত ছিলাম না।


আইনি সহায়তা নিতে তাঁর কক্ষে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করি এবং পরপর তিনবার জিজ্ঞেস করি— “একটু কথা বলা যাবে কি?” প্রতিবারই তিনি চুপ ছিলেন। আমি ভাবলাম, হয়তো খেয়াল করেননি। কিন্তু চতুর্থবার জিজ্ঞেস করতেই তিনি রাগান্বিত হয়ে অন্যান্য সেবাপ্রত্যাশী ও পুলিশের সামনে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন, ধমক দেন এবং পরে কক্ষ থেকে বের করে দেন।


আমি সেখান থেকে চলে আসি। এরপর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিই—

“যে সকল সরকারি কর্মকর্তা মানুষের সেবায় কাজ করেন, তারা যেন মেজাজ ঠান্ডা করে নাগরিকদের সাথে কথা বলেন। মনমেজাজ ঠিক না থাকলে ওই দিন ছুটি নেন।”



এই স্ট্যাটাস দেখে তিনি আমাকে ফোন করে অফিসে ডাকেন। না গেলে পুলিশ দিয়ে তুলে আনার হুমকিও দেন। যাওয়া মাত্রই তিনি আবারও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বলেন, আমি নাকি জামায়াত–শিবিরের এজেন্ট। আমার ফোন নিয়ে নেন। তাঁর আচরণ ছিল ভয়ঙ্কর।


আমি স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করি—এ কথা শুনে তিনি ‘ভুয়া সাংবাদিক’সহ নানা ধরনের কটূক্তি করেন। পরে তিনি কক্সবাজারের সাংবাদিক, শাপলাপুরের আমান উল্লাহ আমানকে ফোন করেন। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হলো, তারা পুরোনো বন্ধু। আমান তখন আমাকে চিনেও ‘চিনি না’ বলে জানালেন—বুঝলাম, এটা ছিল সাজানো নাটকের অংশ।


এর মধ্যেই ওসি (তদন্ত) বাবুল আজাদ আমাকে টানা পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখলেন। আমার ফোন চেক করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন—আমি নাকি সরকারবিরোধী লেখা লিখি এবং জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করি।


আমি বুঝে গেলাম, তিনি আমাকে ছাড়বেন না। এদিকে আমার মা তখন খুব অসুস্থ; ডাক্তার দেখাতে বারবার ফোন দিচ্ছিলেন—কিন্তু ফোন তো তাঁর হাতেই। মা–এর চিকিৎসার কথা বলে বহু অনুরোধ করলাম, সরি বললাম—তবু তাঁর মন গলেনি।


অবশেষে হাত–পা ধরে অনুরোধ করার পর তিনি ফোনটি দিলেন। এরপরই আমি বাংলাভিশনের কক্সবাজার প্রতিনিধি সাংবাদিক মোরশেদুর রহমান খোকন ভাইকে ঘটনাটি জানাই। খোকন ভাই ফোন করে বাবুল আজাদকে জিজ্ঞেস করেন—“তাকে আটকানোর কারণ কী?” কিন্তু তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে খোকন ভাইয়ের উদ্যোগে তিনি আমাকে ছাড়া হবে বলে জানান। এরপর মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল বশর পারভেজের জিম্মায় মুচলেখা নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


এটাই ছিল আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা। বাবুল আজাদ যতদিন মহেশখালী থানায় ছিলেন, ততদিন এমন কোনো অপকর্ম নেই—যাতে তিনি জড়াননি। তাঁর শক্তি ছিল রাজনৈতিক আশ্রয়–প্রশ্রয়—স্থানীয় এমপি ও মেয়র। তিনি নাকি আওয়ামী লীগের “আস্থাভাজন” কর্মকর্তা।


এখন এই বাবুল আজাদ চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার প্রভাবশালী ওসি। সেখানেও তিনি নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন। এখন পরিচয় দেন—তিনি নাকি ‘বিএনপির ওসি’।


মূলত, পুলিশ বিভাগকে জনবান্ধব করতে হলে বাবুল আজাদের মতো কর্মকর্তাদের সরিয়ে আনা জরুরি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ