চকরিয়ায় বেপরোয়া গতির বলি অজ্ঞাত যুবকের লাশের সন্ধান চাই

 



নলভিল্লায় খাদ্য গুদামের সামনে দুর্ঘটনা; ৬ মাস পরও মেলেনি পরিচয়, বিচারের অপেক্ষায় নিথর দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া: 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের চকরিয়ায় বেপরোয়া গতির অজ্ঞাত এক গাড়ির ধাক্কায় ২২ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত ২ জুন সকালে চকরিয়া থানাধীন নলভিল্লা এলাকায় চিরিঙ্গা খাদ্য গুদামের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘাতক গাড়ি বা চালককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাজ করছে।

ঘটনার বিবরণ: পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন (২০২৪) সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারগামী একটি দ্রুতগামী গাড়ি নলভিল্লা নামক স্থানে সড়কের পাশে থাকা ওই যুবককে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার তৎকালীন টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়কের বাম পাশে অজ্ঞাতনামা ওই যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাড়ির গতি এতটাই বেশি ছিল যে যুবকটি নিজেকে রক্ষা করার সুযোগ পাননি।

পুলিশি কার্যক্রম ও সুরতহাল: দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন মোল্ল্যা সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত যুবকের বয়স আনুমানিক ২২ বছর এবং তার গায়ে কোনো পোশাক ছিল না। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা গাড়ি ও চালককে আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে পিবিআই: সড়ক দুর্ঘটনার এই সংবেদনশীল মামলাটির তদন্ত তদারকি করছেন পিবিআই কক্সবাজারের সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান। পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, 'হিট অ্যান্ড রান' (ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া) প্রকৃতির এই মামলায় ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় চালককে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।


 

অনিশ্চয়তায় পরিচয় ও বিচার: নিহত যুবকের পরিচয় এখনো উদঘাটিত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও অন্যান্য ডাটাবেজ ব্যবহার করে তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘাতক চালককে আইনের আওতায় আনতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই-এর একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

মহাসড়কে প্রতিনিয়ত এমন বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনার পর চালকদের পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ