কক্সবাজারে পুলিশের উপস্থিতিতেই বৃদ্ধা মহিলার জায়গা দখলচেষ্টা: হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ





চৌধুরী পাড়ায় শিক্ষক শিমুল মল্লিকের নেতৃত্বে তাণ্ডব; নির্বিকার পুলিশ, তদন্তের আশ্বাস ওসির


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজার শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়ায় এক বিধবা নারীর মালিকানাধীন জায়গায় রাতের আঁধারে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পরপরই একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এই তাণ্ডব চালায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খোদ পুলিশের উপস্থিতিতেই শ্রমিকদের মারধর করে নির্মাণাধীন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।



স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা মৃত স্বপন কুমার মল্লিকের স্ত্রী কল্পনা রানী মল্লিক তার নিজস্ব জায়গায় বাউন্ডারি ওয়ালসহ সংস্কার কাজ চালাচ্ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় বিডিআর স্কুলের শিক্ষক শিমুল মল্লিকের নেতৃত্বে ২০-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে হানা দেয়। হামলাকারীরা বাউন্ডারি ওয়াল ও নবনির্মিত স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করলে শ্রমিকরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের মধ্যে রাসেল, রুকনা মল্লিক, শ্রাবন্তী মল্লিক, হাসিনা ও জোতস্না ছাড়াও ১০-১৫ জন মুখোশধারী বহিরাগত যুবক ছিল। তারা নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের বেধড়ক মারধর করে এবং সাইটে থাকা রড, এংগেল, বৈদ্যুতিক তার, সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী সহ মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।



ঘটনার সময় কক্সবাজার সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন ৩-৪ জন পুলিশের সদস্যসহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে পুলিশের সামনেই কীভাবে এমন তাণ্ডব চলল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই সুমন জানান, তিনি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে গিয়েছিলেন। জায়গাটিতে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি মুখে শুনেছি জায়গাটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে, তবে আমাদের কাছে কোনো দাপ্তরিক কাগজপত্র নেই।” তবে তার উপস্থিতিতেই হামলা ও লুটপাটের ঘটনা কেন ঘটল, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

জায়গার মালিক কল্পনা রানী মল্লিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিজেদের বৈধ জায়গায় কাজ করার সময় শিক্ষক নামধারী শিমুল মল্লিক বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে আমার ওপর হামলা করেছে। তারা শুধু ভাঙচুরই করেনি, আমার শ্রমিকদের পিটিয়ে জখম করেছে এবং লাখ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। পুলিশ সেখানে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিল, তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার রাতেই কক্সবাজার সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানান।



কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ছমিউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতিতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে থাকলে তাও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চৌধুরী পাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে এমন সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ