
দৈনিক ৩ হাজার আগ্রহীর বিপরীতে সীমিত ২ হাজার আসন; কঠোর হচ্ছে কিউআর কোড চেক, বেড়েছে নিরাপত্তাও
কক্সবাজার অফিসঃ
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের আগ্রহ তুঙ্গে পৌঁছেছে। মৌসুমের শুরুতে দৈনিক ১ হাজার ২০০ জনের মতো পর্যটক যাতায়াত করলেও, বর্তমানে এই সংখ্যা সরকারি নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ দুই হাজারে পৌঁছেছে। এই বিপুল চাহিদার কারণে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলাচলকারী ছয়টি পর্যটকবাহী জাহাজের সব টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। এমনকি কিছু জাহাজের আসন জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বুকিং হয়ে আছে।
চাহিদা ৩ হাজার, আসন সংখ্যা ২ হাজার
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর নিশ্চিত করেছেন, দৈনিক অন্তত তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে আগ্রহী হলেও, পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক পরিবহনের সুযোগ নেই। আসন সীমিত হওয়ায় গত শুক্র ও শনিবার কক্সবাজার সৈকতে আসা বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেছে।
কঠোর হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ নিশ্চিতকরণ
পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ট্যুরিজম বোর্ড যৌথভাবে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুব পাশা জানান, দ্বীপে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারের ১২ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে কিউআর কোড সংযুক্ত ট্রাভেল পাস ছাড়া কোনো পর্যটককে জাহাজে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের প্রধান আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাতের বেলায় সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ, বারবিকিউ পার্টি এবং দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কার্যকলাপের উপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। প্লাস্টিক ও পলিথিন বহন রোধেও জাহাজে ওঠার আগে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
পর্যটকদের এই উপচে পড়া ভিড় ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে (রাতযাপনের সুযোগ থাকায়) দ্বীপটির আকর্ষণ বহুগুণ বেড়েছে। তবে সরকারি বিধিনিষেধ অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
0 মন্তব্যসমূহ