কক্সবাজার প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা কক্সবাজারের উখিয়ায় অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা এখন বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করে স্থায়ী আবাস গড়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় পরিচয় ধারণ করে তারা কেবল ক্যাম্পের বাইরে নয়, বন বিভাগের মূল্যবান জমিও কিনে নিচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
ভুয়া ঠিকানায় এনআইডি, উখিয়ায় ফার্মেসি ব্যবসা
এমনই এক রোহিঙ্গা হলেন জামাল উদ্দিন, যিনি ২০১২ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে মংডু থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন। শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধিত হতে না পেরে তিনি চট্টগ্রামে চলে যান। সেখানে কিছুদিন থাকার পর তিনি পুনরায় উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের (রেজিস্টার্ড ক্যাম্প রোডের মাথা) কাছে ফিরে এসে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করেন।
বর্তমানে তিনি জাফর আলম নামে নিজের পরিচয় দেন, কারণ তিনি এই নামেই বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। প্রতিবেদকের হাতে আসা জাফর আলমের এনআইডিতে ঠিকানা লেখা হয়েছে চট্টগ্রামের চকবাজারের কে.বি আমান আলী রোডের ১৫৭২ নাম্বার বাসা। তবে বাস্তবে ওই ঠিকানায় গিয়ে তাঁর অস্তিত্ব মেলেনি।
জাল এনআইডি ব্যবহার করে এই রোহিঙ্গা জামাল ওরফে জাফর আলম উখিয়ার হাজম রোড এলাকায় বন বিভাগের প্রায় ১৪ শতক জমিতে টিনশেডের ঘর তৈরি করে পরিবারসহ বসবাস শুরু করেছেন।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, বন বিভাগের ওই জমিটি রাজাপালংয়ের তুলাতুলি গ্রামের দিলশাদ বেগম নামে এক নারী ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা স্ট্যাম্পে বিক্রি করেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাফর আলম জমিটি কিনেছেন ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে। রেঞ্জ কর্মকর্তা আরও জানান, রোহিঙ্গা জাফরের বিষয়ে ইউএনওর সাথে আলাপ করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বনের জমিটি দ্রুত উদ্ধার করা হবে।
অভিযুক্ত জাফর আলম নিজে রোহিঙ্গা বলে সরাসরি স্বীকার না করলেও, তাঁর ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি অস্পষ্টতা দেখান। তিনি জানান, তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল করলে কোনো অসুবিধা নেই, যা তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
শুধু জাফর আলম নন, কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের আব্দুর রহমান-এর মতো অনেক নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও সন্তানদের নাম-পরিচয় গোপন করে জন্মনিবন্ধন নিয়েছেন। স্থানীয়দের অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রবিউল হোসাইন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রোহিঙ্গারা নানাভাবে বাংলাদেশী এনআইডি নিতে মরিয়া হয়ে উঠছে। অনেক বিত্তবান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে এবং উখিয়ার কুতুপালং, হাজমরোড, থাইংখালীর মরা আমগাছতলাসহ বিভিন্ন জায়গায় বনের জমি কিনে স্থায়ী আবাস তৈরি করছে। এতে রোহিঙ্গাদের মাঝে নিজ দেশে ফিরে যেতে অনাগ্রহ তৈরি হতে পারে। তিনি সরকারকে এ বিষয়গুলো কঠোরভাবে দেখার দাবি জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে র্যাব-১৫ উখিয়া এবং টেকনাফের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে রোহিঙ্গাদেরকে ঘরভাড়া দেওয়া বাংলাদেশি মালিক এবং ভাড়া বাসায় থাকা রোহিঙ্গাদেরকে আটক করেছে। কিন্তু এনআইডি ও বনভূমি দখলের এই অপতৎপরতা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
0 মন্তব্যসমূহ